মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
হাতিয়ার জাগলাচরে সংঘর্ষ

বাহিনীর প্রধান কোপা শামছুর মরদেহ না পেয়ে পরিবারের আহাজারি

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত : বুধবার, ২৪ ডিসেম্বর ২০২৫। ৫:৩২:৪৩ পিএম
  • / 85

আমার বাবাকে জমি দেওয়ার কথা বলে মনির মেম্বার জাগলার চরে নিয়ে গেছে। সঙ্গে আমার ভাইও ছিল। আমার ভাইয়ের মরদেহ পেয়েছি, কিন্তু আমার বাবার কোনো খোঁজ পাইনি। তাকে বাগানের ভেতর দিয়ে মিয়ানমারে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। জীবিত অথবা মৃত যে অবস্থাতেই হোক, আমরা আমার বাবার সন্ধান চাই। বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) দুপুরে হাতিয়া থানার সামনে এসব কথা বলতে বলতে কান্নায় ভেঙে পড়েন জাগলার চরে দুই পক্ষের সংঘর্ষে নিখোঁজ শামছুদ্দিন ওরফে কোপা শামছুর ছেলে মো. ফখরুল ইসলাম।

নিখোঁজ মো. শামছুদ্দিন হাতিয়া উপজেলার জাহাজমারা ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের ছায়দুল হকের ছেলে। তার কলেজপড়ুয়া সন্তান মোবারক হোসেন শিহাবসহ মোট পাঁচজনের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

অন্যান্য নিহতরা হলেন- সুখচর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের চর আমান উল্যাহ গ্রামের মহিউদ্দিনের ছেলে আলাউদ্দিন, হাতিয়া পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম লক্ষিদিয়া এলাকার মৃত শাহী আলমের ছেলে হক সাব, মো. কামাল উদ্দিন এবং সুবর্ণচর উপজেলার চরবাটা ইউনিয়নের দক্ষিণ চর মজিদ এলাকার জয়নাল আবেদীনের ছেলে আবুল কাশেম।

শামছুদ্দিনের স্ত্রী মাহফুজা বেগম বলেন, আমার স্বামী একজন ভালো মানুষ। জমিতে চাষাবাদ করে আমাদের সংসার চলত। ভূমিহীন হিসেবে জমি দেওয়ার কথা বলে তাকে জাগলার চরে নেওয়া হয়। সঙ্গে আমার ছেলেও ছিল। ছেলের সামনেই ওরা আমার স্বামীকে মারধর করে, পরে গুলি করে। আমি আমার ছেলের শেষ কথাও শুনতে পারিনি। আমি আমার স্বামীর সন্ধান চাই জীবিত অথবা মৃত। পাশাপাশি অপরাধীদের বিচার চাই।

জানা গেছে, মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) সকাল ১০টার দিকে হাতিয়া উপজেলার সুখচর ইউনিয়নের ৭ ও ৮ নম্বর ওয়ার্ডসংলগ্ন জাগলার চরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সশস্ত্র সংঘর্ষ হয়। গোলাগুলিতে পাঁচজন নিহত হন এবং অন্তত ৮ থেকে ১০ জন আহত হন।

স্থানীয় সূত্র জানায়, জাগলার চরের জমি এখনো সরকারিভাবে কাউকে বন্দোবস্ত দেওয়া হয়নি। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে গত ৫ আগস্টের পর জাহাজমারা ইউনিয়নের কোপা সামছু বাহিনী প্রতি দাগ ২০ হাজার ৫০০ টাকায় জমি বিক্রি শুরু করে। পরে সুখচর ইউনিয়নের আলাউদ্দিন বাহিনী ওই জমি দখলে নিতে মরিয়া হয়ে ওঠে এবং আরও বেশি দামে জমি বিক্রি করে। এতে দুই পক্ষের মধ্যে চরম উত্তেজনা তৈরি হয়।

অভিযোগ রয়েছে, চর দখলের সঙ্গে যুক্ত ডাকাত আলাউদ্দিনের সঙ্গে সুখচর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি বেলায়েত হোসেন সেলিম, আওয়ামী লীগ নেতা নিজাম মেম্বার এবং বিএনপি নেতা নবীর ঘনিষ্ঠতা রয়েছে। তাদের সহযোগিতায় আলাউদ্দিন বাহিনী কোপা সামছু বাহিনীকে বিতাড়িত করতে তৎপর হয়। মঙ্গলবার সকালে কোপা সামছু বাহিনী, আলাউদ্দিন বাহিনী ও ফরিদ কমান্ডারের বাহিনী মুখোমুখি অবস্থানে গেলে বন্দুকযুদ্ধ শুরু হয়। এতে আলাউদ্দিনসহ পাঁচজন নিহত হন। এরপর ফরিদ ডাকাত তার বাহিনী নিয়ে পালিয়ে যায়।

নোয়াখালীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবু তৈয়ব মো. আরিফ হোসেন গণমাধ্যমকে বলেন, আমরা পাঁচটি মরদেহ উদ্ধার করেছি, এর মধ্যে শামছুদ্দিনের মরদেহ পাওয়া যায়নি। একজন আহত রয়েছেন, তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। মরদেহগুলো নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ময়নাতদন্তের পর মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে। বর্তমানে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

উপকূল | ২৪ ডিসেম্বর ২০২৫

বাহিনীর প্রধান কোপা শামছুর মরদেহ না পেয়ে পরিবারের আহাজারি

বিস্তারিত | hatiyakantha.com

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ারের করুন

হাতিয়ার জাগলাচরে সংঘর্ষ

বাহিনীর প্রধান কোপা শামছুর মরদেহ না পেয়ে পরিবারের আহাজারি

প্রকাশিত : ১১:৩২:৪৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৪ ডিসেম্বর ২০২৫

আমার বাবাকে জমি দেওয়ার কথা বলে মনির মেম্বার জাগলার চরে নিয়ে গেছে। সঙ্গে আমার ভাইও ছিল। আমার ভাইয়ের মরদেহ পেয়েছি, কিন্তু আমার বাবার কোনো খোঁজ পাইনি। তাকে বাগানের ভেতর দিয়ে মিয়ানমারে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। জীবিত অথবা মৃত যে অবস্থাতেই হোক, আমরা আমার বাবার সন্ধান চাই। বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) দুপুরে হাতিয়া থানার সামনে এসব কথা বলতে বলতে কান্নায় ভেঙে পড়েন জাগলার চরে দুই পক্ষের সংঘর্ষে নিখোঁজ শামছুদ্দিন ওরফে কোপা শামছুর ছেলে মো. ফখরুল ইসলাম।

নিখোঁজ মো. শামছুদ্দিন হাতিয়া উপজেলার জাহাজমারা ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের ছায়দুল হকের ছেলে। তার কলেজপড়ুয়া সন্তান মোবারক হোসেন শিহাবসহ মোট পাঁচজনের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

অন্যান্য নিহতরা হলেন- সুখচর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের চর আমান উল্যাহ গ্রামের মহিউদ্দিনের ছেলে আলাউদ্দিন, হাতিয়া পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম লক্ষিদিয়া এলাকার মৃত শাহী আলমের ছেলে হক সাব, মো. কামাল উদ্দিন এবং সুবর্ণচর উপজেলার চরবাটা ইউনিয়নের দক্ষিণ চর মজিদ এলাকার জয়নাল আবেদীনের ছেলে আবুল কাশেম।

শামছুদ্দিনের স্ত্রী মাহফুজা বেগম বলেন, আমার স্বামী একজন ভালো মানুষ। জমিতে চাষাবাদ করে আমাদের সংসার চলত। ভূমিহীন হিসেবে জমি দেওয়ার কথা বলে তাকে জাগলার চরে নেওয়া হয়। সঙ্গে আমার ছেলেও ছিল। ছেলের সামনেই ওরা আমার স্বামীকে মারধর করে, পরে গুলি করে। আমি আমার ছেলের শেষ কথাও শুনতে পারিনি। আমি আমার স্বামীর সন্ধান চাই জীবিত অথবা মৃত। পাশাপাশি অপরাধীদের বিচার চাই।

জানা গেছে, মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) সকাল ১০টার দিকে হাতিয়া উপজেলার সুখচর ইউনিয়নের ৭ ও ৮ নম্বর ওয়ার্ডসংলগ্ন জাগলার চরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সশস্ত্র সংঘর্ষ হয়। গোলাগুলিতে পাঁচজন নিহত হন এবং অন্তত ৮ থেকে ১০ জন আহত হন।

স্থানীয় সূত্র জানায়, জাগলার চরের জমি এখনো সরকারিভাবে কাউকে বন্দোবস্ত দেওয়া হয়নি। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে গত ৫ আগস্টের পর জাহাজমারা ইউনিয়নের কোপা সামছু বাহিনী প্রতি দাগ ২০ হাজার ৫০০ টাকায় জমি বিক্রি শুরু করে। পরে সুখচর ইউনিয়নের আলাউদ্দিন বাহিনী ওই জমি দখলে নিতে মরিয়া হয়ে ওঠে এবং আরও বেশি দামে জমি বিক্রি করে। এতে দুই পক্ষের মধ্যে চরম উত্তেজনা তৈরি হয়।

অভিযোগ রয়েছে, চর দখলের সঙ্গে যুক্ত ডাকাত আলাউদ্দিনের সঙ্গে সুখচর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি বেলায়েত হোসেন সেলিম, আওয়ামী লীগ নেতা নিজাম মেম্বার এবং বিএনপি নেতা নবীর ঘনিষ্ঠতা রয়েছে। তাদের সহযোগিতায় আলাউদ্দিন বাহিনী কোপা সামছু বাহিনীকে বিতাড়িত করতে তৎপর হয়। মঙ্গলবার সকালে কোপা সামছু বাহিনী, আলাউদ্দিন বাহিনী ও ফরিদ কমান্ডারের বাহিনী মুখোমুখি অবস্থানে গেলে বন্দুকযুদ্ধ শুরু হয়। এতে আলাউদ্দিনসহ পাঁচজন নিহত হন। এরপর ফরিদ ডাকাত তার বাহিনী নিয়ে পালিয়ে যায়।

নোয়াখালীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবু তৈয়ব মো. আরিফ হোসেন গণমাধ্যমকে বলেন, আমরা পাঁচটি মরদেহ উদ্ধার করেছি, এর মধ্যে শামছুদ্দিনের মরদেহ পাওয়া যায়নি। একজন আহত রয়েছেন, তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। মরদেহগুলো নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ময়নাতদন্তের পর মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে। বর্তমানে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

উপকূল | ২৪ ডিসেম্বর ২০২৫

বাহিনীর প্রধান কোপা শামছুর মরদেহ না পেয়ে পরিবারের আহাজারি

বিস্তারিত | hatiyakantha.com