হাতিয়ায় পরকীয়ার অভিযোগে প্রেমিক আটক, পুলিশের কাছে হস্তান্তর
- প্রকাশিত : শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২৬। ৮:১৯:৫৫ পিএম
নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার জাহাজমারা ইউনিয়নে পরকীয়ার অভিযোগে এক যুবককে হাতেনাতে আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনা ঘিরে এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবিতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
শুক্রবার (২৭ মার্চ) রাতে উভয় পক্ষ ঘটনার মিটমাট করার কথা রয়েছে। এর আগে ২৬ মার্চ রাত ১১টায় জাহাজমারা ইউনিয়নের সিডিএসপি বাজার সংলগ্ন কাশেম মেম্বারের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। আটক যুবকের নাম মো. মতিন (২৭)।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২৬ মার্চ দিবাগত রাত প্রায় ১১টার দিকে মতিন কাশেম মেম্বারের ছেলে মো. আলীর ঘরের পেছনের দরজা দিয়ে প্রবেশের চেষ্টা করলে আশপাশের লোকজনের সন্দেহ হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা প্রথমে তাকে চোর ভেবে আটক করেন। পরে জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনার ভিন্ন দিক উন্মোচিত হয়।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত আজাদের স্ত্রী জানান,“রাতের অন্ধকারে এক অপরিচিত লম্বাচুলওয়ালা লোক আমাদের ঘরের সামনে দিয়ে গিয়ে পাশের বাড়ির দরজায় টোকা দিচ্ছিল। সন্দেহ হওয়ায় আমরা তাকে ধরে ফেলি। পরে লোকজন জড়ো হলে বিষয়টি পরিষ্কার হয়।”
স্থানীয়রা জানান, আটক করার পর জিজ্ঞাসাবাদে মতিন তার মোবাইল ফোনে সংশ্লিষ্ট নারীর সঙ্গে সম্পর্কের বিভিন্ন আলামত দেখায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।
জানা গেছে, জাহাজমারা ইউনিয়নের সাবেক মেম্বার আবুল কাশেমের ছেলে মো. আলীর সঙ্গে প্রায় সাত বছর আগে নিঝুম দ্বীপ ইউনিয়নের সাবেক মেম্বার আনোয়ার হোসেনের মেয়ের বিয়ে হয়। তাদের সংসারে দুই সন্তান রয়েছে। তবে বিয়ের আগেই ওই নারীর সঙ্গে একই এলাকার বাসিন্দা মতিনের সম্পর্ক ছিল বলে স্থানীয়রা দাবি করেছেন।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, পারিবারিক সিদ্ধান্তে অন্যত্র বিয়ে হলেও পূর্বের সম্পর্কের টান থেকে এ ঘটনা ঘটতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ বিষয়ে ওই নারী তার শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের কাছেও বিষয়টি স্বীকার করেছেন বলে একাধিক ব্যক্তি জানিয়েছেন।
ঘটনার পর শুক্রবার এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। সিডিএসপি বাজার সংলগ্ন এলাকায় শতাধিক মানুষ জড়ো হয়ে ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন। এসময় বাজার কমিটির সভাপতি লিটন, কাওছার, রিয়াজ, সুমন হুজুর, বেচু ও মন্নানসহ স্থানীয়রা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,“এ ধরনের ঘটনা আগেও ঘটেছে। বিচার না হওয়ায় অনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়ছে। সমাজ রক্ষায় দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে।”
এ বিষয়ে কাশেম মেম্বারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান। একইভাবে মতিনের বাবা শাহজাহান ও নারীর বাবা আনোয়ার মেম্বারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
হাতিয়ার জাহাজমারা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ খোরশেদ আলম হাতিয়া কন্ঠকে বলেন, ‘স্থানীয়রা অভিযুক্ত যুবককে পুলিশের হাতে সোপর্দ করার পর, তাকে হাতিয়া থানায় প্রেরণ করা হয়েছে।’










