মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সাড়ে ৫ বছরেও শেষ হয়নি হাতিয়ার মডেল মসজিদ, ঝুলছে ১৭ কোটি টাকার প্রকল্প

ছায়েদ আহামেদ
  • প্রকাশিত : রবিবার, ৩ মে ২০২৬। ৭:৫১:৪০ পিএম
  • / 80

দেশের সব জেলা ও উপজেলায় একটি করে মোট ৫৬০টি মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ নেয় সরকার। এর আওতায় নোয়াখালীর ৯ উপজেলার মধ্যে ৮টিতে কাজ সম্পন্ন হলেও হাতিয়া উপজেলা মডেল মসজিদের নির্মাণ কাজ সাড়ে ৫ বছরেও শেষ হয়নি। বর্তমানে কাজের অগ্রগতি মাত্র ৬০ শতাংশ। এতে স্থানীয় মুসল্লীদের মধ্যে ক্ষোভ ও নানা জিজ্ঞাসা তৈরি হয়েছে।

তৎকালীন সরকারের ধর্ম মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে নির্মিতব্য চারতলা ভিত্তিযুক্ত নান্দনিক ও গঠনশৈলীর এ মডেল মসজিদ এবং ইসলামী সাংস্কৃতিক কেন্দ্র। দীর্ঘসময় ধরে এর নির্মাণ কার্য ঝুলে থাকার কারণ অনুসন্ধানে জানা যায়- ঠিকাদার নিজ স্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যে এ দীর্ঘমেয়াদী অপ-কৌশল বেচে নিয়েছে। সময়ক্ষেপন করে সামগ্রী ও শ্রমিক রেট এর দোহাই দিয়ে বারবার বরাদ্দ বৃদ্ধি করার অপচেষ্টা করছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২০২০ সালের ৭ ডিসেম্বর গণপূর্ত বিভাগের সাথে KE-OG-DESH (JV) নামীয় নির্মাণ প্রতিষ্ঠানের ১৫ মাস মেয়াদি চুক্তি স্বাক্ষর হয়। প্রতিষ্ঠানের লিড পার্টনার ওসমান গনি চুক্তিপত্রে স্বাক্ষর করেন। একই সময়ে কার্যাদেশও দেওয়া হয়। চুক্তিমূল্য নির্ধারণ করা হয় ১৪ কোটি ৯২ লাখ ৯০ হাজার ৩৬২ টাকা ৭৭ পয়সা। পরবর্তীতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের আবেদনের প্রেক্ষিতে গণপূর্ত বিভাগের প্রধান প্রকৌশলী দুই দফায় মোট ৩৬৫ দিন সময় বৃদ্ধি করেন। সর্বশেষ মেয়াদ শেষ হয় ২০২৪ সালের ৩০ জুন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে জানা যায়, কাজের বাস্তব অবস্থা বিবেচনায় ২০২৪ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি প্রথম ভেরিয়েশন অনুমোদন করা হয় ২ কোটি ১৭ লাখ ৭৩২ টাকা। ফলে ভেরিয়েশনসহ মোট চুক্তিমূল্য দাঁড়ায় ১৬ কোটি ৯৩ লাখ ৮ হাজার ৯৫ টাকা। কিন্তু সময় বৃদ্ধির পরবর্তী আরো দেড় বছর অতিবাহিত হলেও এখনো নির্মাণ কাজ শেষ হয়নি। ফলে অস্থায়ী মসজিদে মুসল্লীদের স্থানসংকুলান না হওয়ায় ঠিকাদার ও সংশ্লিষ্ট বিভাগের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।

জানা যায়, চুক্তি অনুযায়ী কাজ সম্পন্ন না হওয়ায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে গণপূর্ত বিভাগ চার ধাপে নোটিশ প্রদান করে। সর্বশেষ ২০২৬ সালের ১২ এপ্রিল আরেকটি চিঠি দেওয়া হয়।

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, এ পর্যন্ত ঠিকাদারকে ৯ কোটি ৯৫ লাখ ৬৩ হাজার টাকা বিল পরিশোধ করা হয়েছে। চুক্তি সম্পাদনের পর ৬২ মাস অতিবাহিত হলেও কাজের ভৌত অগ্রগতি মাত্র ৬০ শতাংশ এবং আর্থিক অগ্রগতি ৫৮ দশমিক ৭৭ শতাংশ। এতে আরও বলা হয়, মান বজায় রেখে দ্রুত কাজ শেষ করতে ঠিকাদারকে বারবার নির্দেশ দেওয়া হলেও কোনো অগ্রগতি হয়নি। একাধিকবার লিখিত ও মৌখিক তাগাদা সত্ত্বেও কাজে অবহেলা ও গড়িমসি অব্যাহত রয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলা পরিষদ জামে মসজিদ (মডেল মসজিদ) নির্মাণ কাজ শুরু হওয়ার পর প্রায় সময় বন্ধ ছিল। বর্তমানে গাঁথুনি ও প্লাস্টারের কাজ খুব ধীরগতিতে চলেছে।

স্থানীয় মুসল্লী মাস্টার আনোয়ার হোসেন বলেন, নির্মাণ কাজে এত বিলম্ব আমাদের ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের মনে আঘাত হেনেছে। নাজিম উদ্দিন নামের আরেক মুসল্লী বলেন, এমন দায়িত্বহীন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে জরিমানাসহ লাইসেন্স বাতিল করা উচিত। একই সঙ্গে চুক্তি বাতিলের দাবি জানান তিনি।

মসজিদের পেশ ইমাম মাওলানা জিয়াউল হক জানান, কাজ খুব ধীরগতিতে চলছে। অস্থায়ী মসজিদে মুসল্লীদের জায়গা হচ্ছে না। মসজিদ কমিটির পক্ষ থেকে ঠিকাদারকে বারবার বলা হলেও কোনো সদুত্তর পাওয়া যাচ্ছে না। এছাড়া ইঞ্জিনিয়ার টিম এলেও কখনো আমাদেরকে কিছু জিজ্ঞেস করেনি।
এ বিষয়ে KE-OG-DESH (JV)-এর লিড পার্টনার ওসমান গনি বলেন, ডিপার্টমেন্ট আমাকে দেরিতে ডিজাইন দিয়েছে। এছাড়া মসজিদের বাউন্ডারি ও গেইট নির্মাণের জন্য নতুন বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে। বরাদ্দ পেলে একসঙ্গে কাজ শেষ করা হবে।

জানতে চাইলে নোয়াখালী জেলা গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আহসান হাবীব হাতিয়া কন্ঠকে বলেন, কাজটি সময়মতো শেষ না হওয়ায় গণপূর্ত বিভাগের সুনাম ক্ষুণ্ন হচ্ছে। ঠিকাদারকে বারবার তাগাদা দেওয়ার পরও তিনি কাজ শেষ করছেন না। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

প্রধান সংবাদ | ৩ মে ২০২৬

সাড়ে ৫ বছরেও শেষ হয়নি হাতিয়ার মডেল মসজিদ, ঝুলছে ১৭ কোটি টাকার প্রকল্প

বিস্তারিত | hatiyakantha.com
বিষয় :

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ারের করুন

সাড়ে ৫ বছরেও শেষ হয়নি হাতিয়ার মডেল মসজিদ, ঝুলছে ১৭ কোটি টাকার প্রকল্প

প্রকাশিত : ০১:৫১:৪০ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩ মে ২০২৬

দেশের সব জেলা ও উপজেলায় একটি করে মোট ৫৬০টি মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ নেয় সরকার। এর আওতায় নোয়াখালীর ৯ উপজেলার মধ্যে ৮টিতে কাজ সম্পন্ন হলেও হাতিয়া উপজেলা মডেল মসজিদের নির্মাণ কাজ সাড়ে ৫ বছরেও শেষ হয়নি। বর্তমানে কাজের অগ্রগতি মাত্র ৬০ শতাংশ। এতে স্থানীয় মুসল্লীদের মধ্যে ক্ষোভ ও নানা জিজ্ঞাসা তৈরি হয়েছে।

তৎকালীন সরকারের ধর্ম মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে নির্মিতব্য চারতলা ভিত্তিযুক্ত নান্দনিক ও গঠনশৈলীর এ মডেল মসজিদ এবং ইসলামী সাংস্কৃতিক কেন্দ্র। দীর্ঘসময় ধরে এর নির্মাণ কার্য ঝুলে থাকার কারণ অনুসন্ধানে জানা যায়- ঠিকাদার নিজ স্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যে এ দীর্ঘমেয়াদী অপ-কৌশল বেচে নিয়েছে। সময়ক্ষেপন করে সামগ্রী ও শ্রমিক রেট এর দোহাই দিয়ে বারবার বরাদ্দ বৃদ্ধি করার অপচেষ্টা করছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২০২০ সালের ৭ ডিসেম্বর গণপূর্ত বিভাগের সাথে KE-OG-DESH (JV) নামীয় নির্মাণ প্রতিষ্ঠানের ১৫ মাস মেয়াদি চুক্তি স্বাক্ষর হয়। প্রতিষ্ঠানের লিড পার্টনার ওসমান গনি চুক্তিপত্রে স্বাক্ষর করেন। একই সময়ে কার্যাদেশও দেওয়া হয়। চুক্তিমূল্য নির্ধারণ করা হয় ১৪ কোটি ৯২ লাখ ৯০ হাজার ৩৬২ টাকা ৭৭ পয়সা। পরবর্তীতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের আবেদনের প্রেক্ষিতে গণপূর্ত বিভাগের প্রধান প্রকৌশলী দুই দফায় মোট ৩৬৫ দিন সময় বৃদ্ধি করেন। সর্বশেষ মেয়াদ শেষ হয় ২০২৪ সালের ৩০ জুন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে জানা যায়, কাজের বাস্তব অবস্থা বিবেচনায় ২০২৪ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি প্রথম ভেরিয়েশন অনুমোদন করা হয় ২ কোটি ১৭ লাখ ৭৩২ টাকা। ফলে ভেরিয়েশনসহ মোট চুক্তিমূল্য দাঁড়ায় ১৬ কোটি ৯৩ লাখ ৮ হাজার ৯৫ টাকা। কিন্তু সময় বৃদ্ধির পরবর্তী আরো দেড় বছর অতিবাহিত হলেও এখনো নির্মাণ কাজ শেষ হয়নি। ফলে অস্থায়ী মসজিদে মুসল্লীদের স্থানসংকুলান না হওয়ায় ঠিকাদার ও সংশ্লিষ্ট বিভাগের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।

জানা যায়, চুক্তি অনুযায়ী কাজ সম্পন্ন না হওয়ায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে গণপূর্ত বিভাগ চার ধাপে নোটিশ প্রদান করে। সর্বশেষ ২০২৬ সালের ১২ এপ্রিল আরেকটি চিঠি দেওয়া হয়।

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, এ পর্যন্ত ঠিকাদারকে ৯ কোটি ৯৫ লাখ ৬৩ হাজার টাকা বিল পরিশোধ করা হয়েছে। চুক্তি সম্পাদনের পর ৬২ মাস অতিবাহিত হলেও কাজের ভৌত অগ্রগতি মাত্র ৬০ শতাংশ এবং আর্থিক অগ্রগতি ৫৮ দশমিক ৭৭ শতাংশ। এতে আরও বলা হয়, মান বজায় রেখে দ্রুত কাজ শেষ করতে ঠিকাদারকে বারবার নির্দেশ দেওয়া হলেও কোনো অগ্রগতি হয়নি। একাধিকবার লিখিত ও মৌখিক তাগাদা সত্ত্বেও কাজে অবহেলা ও গড়িমসি অব্যাহত রয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলা পরিষদ জামে মসজিদ (মডেল মসজিদ) নির্মাণ কাজ শুরু হওয়ার পর প্রায় সময় বন্ধ ছিল। বর্তমানে গাঁথুনি ও প্লাস্টারের কাজ খুব ধীরগতিতে চলেছে।

স্থানীয় মুসল্লী মাস্টার আনোয়ার হোসেন বলেন, নির্মাণ কাজে এত বিলম্ব আমাদের ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের মনে আঘাত হেনেছে। নাজিম উদ্দিন নামের আরেক মুসল্লী বলেন, এমন দায়িত্বহীন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে জরিমানাসহ লাইসেন্স বাতিল করা উচিত। একই সঙ্গে চুক্তি বাতিলের দাবি জানান তিনি।

মসজিদের পেশ ইমাম মাওলানা জিয়াউল হক জানান, কাজ খুব ধীরগতিতে চলছে। অস্থায়ী মসজিদে মুসল্লীদের জায়গা হচ্ছে না। মসজিদ কমিটির পক্ষ থেকে ঠিকাদারকে বারবার বলা হলেও কোনো সদুত্তর পাওয়া যাচ্ছে না। এছাড়া ইঞ্জিনিয়ার টিম এলেও কখনো আমাদেরকে কিছু জিজ্ঞেস করেনি।
এ বিষয়ে KE-OG-DESH (JV)-এর লিড পার্টনার ওসমান গনি বলেন, ডিপার্টমেন্ট আমাকে দেরিতে ডিজাইন দিয়েছে। এছাড়া মসজিদের বাউন্ডারি ও গেইট নির্মাণের জন্য নতুন বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে। বরাদ্দ পেলে একসঙ্গে কাজ শেষ করা হবে।

জানতে চাইলে নোয়াখালী জেলা গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আহসান হাবীব হাতিয়া কন্ঠকে বলেন, কাজটি সময়মতো শেষ না হওয়ায় গণপূর্ত বিভাগের সুনাম ক্ষুণ্ন হচ্ছে। ঠিকাদারকে বারবার তাগাদা দেওয়ার পরও তিনি কাজ শেষ করছেন না। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

প্রধান সংবাদ | ৩ মে ২০২৬

সাড়ে ৫ বছরেও শেষ হয়নি হাতিয়ার মডেল মসজিদ, ঝুলছে ১৭ কোটি টাকার প্রকল্প

বিস্তারিত | hatiyakantha.com