৫৪ বছর পর বাড়ি ফিরলেন হাতিয়া দ্বীপের নিখোঁজ জেলে ছৈয়দ আহাম্মদ
- প্রকাশিত : রবিবার, ১০ মে ২০২৬। ৩:১২:৩৫ পিএম
দীর্ঘ ৫৪ বছর আগে ট্রলারডুবিতে নিখোঁজ হয়েছিলেন জেলে ছৈয়দ আহাম্মদ। পরিবার-স্বজনরা ধরে নিয়েছিল, তিনি আর বেঁচে নেই। সময়ের স্রোতে হারিয়ে যাওয়া সেই মানুষটিই হঠাৎ একদিন ফিরে এলেন নিজ বাড়িতে। নিজের পরিচয় দিতেই বিস্ময়ে হতবাক হয়ে যান স্বজনরা। মুহূর্তেই খবর ছড়িয়ে পড়ে পুরো এলাকায়। শত শত উৎসুক মানুষ ভিড় জমাতে থাকে তাকে এক নজর দেখার জন্য।
এমন চাঞ্চল্যকর দৃশ্যপট নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের এমপির পুল সংলগ্ন ফজলি বাড়িতে দেখা গেছে। ফিরে আসা ছৈয়দ আহাম্মদ মৃত ধন মিয়ার ছেলে। এখন তার বয়স ৮০ বছরের ঊর্ধ্বে। বর্তমানে তিনি বার্ধক্যজনিত নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছেন।
স্বজনদের সূত্রে জানা যায়, প্রায় ৫৪ বছর আগে কুতুবদিয়া এলাকায় মাছ ধরতে গিয়ে ভয়াবহ ট্রলারডুবির ঘটনায় নিখোঁজ হন ছৈয়দ আহাম্মদ। নদীর উত্তাল স্রোতে সঙ্গীরা ছিটকে পড়ে বিভিন্নদিকে হারিয়ে যায়। এরপর বহু খোঁজাখুঁজির পরও তার আর কোনো সন্ধান মেলেনি।
পরিবারের দাবি, ট্রলারডুবির পর কোনোভাবে খড়কুটো আঁকড়ে ধরে ভেসে ভারতের এক অজ্ঞাত এলাকায় পৌঁছান তিনি। পরে জীবনের দীর্ঘ সময় বিভিন্ন মসজিদ ও মাজারে কাটান। সম্প্রতি ভারতের হাওড়া স্টেশনে একদল দুষ্কৃতকারী তার কাছে থাকা অর্থ ছিনিয়ে নেয়। পরে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ আইনগত প্রক্রিয়া শেষে তাকে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেয়। ধীরে ধীরে পথ খুঁজতে খুঁজতে তিনি হাতিয়ায় এসে নিজের পরিচয় প্রকাশ করেন।
এ ঘটনায় এলাকায় আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই এটিকে “অলৌকিক প্রত্যাবর্তন” বলে মন্তব্য করছেন।
এদিকে, ছৈয়দ আহাম্মদের ঔরসজাত ছেলে আকরাম (৫৩) বিষয়টি নিয়ে হাতিয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি নং-৩২৯) করেছেন। জিডিতে তিনি উল্লেখ করেন, তার জন্মের পরপরই বাবা নিখোঁজ হন। মা ছামনা খাতুন ও তাকে চাচাদের জিম্মায় রেখে ছৈয়দ আহাম্মদ ফেরারি হয়ে যান বলে তখন ধারণা করা হয়েছিল।
জিডিতে আরও বলা হয়, গত মঙ্গলবার(৫ মে) দুপুর ২টার দিকে ছৈয়দ আহাম্মদ পৈতৃক বাড়িতে এসে নিজের পরিচয় দেন। পরে তার সহপাঠী মুন্সি সারেং, চাচাতো ভাই গেদু মিয়া, সহোদর আবুল খায়ের ওরফে জমিদারসহ কয়েকজন প্রবীণ তাকে সনাক্ত করেন। তবে ফিরে আসার পর তাকে ঘিরে পারিবারিক টানাপোড়েনও তৈরি হয়েছে। আকরাম(ডাক নাম) অভিযোগ করেন, তার চাচাতো ভাই আকতার হোসেনসহ কয়েকজন ব্যক্তি ছৈয়দ আহাম্মদকে তার জিম্মায় না দিয়ে বিভিন্ন পাঁয়তারা করছেন। এ কারণে তিনি পুলিশের সহযোগিতা কামনা করেন।
অন্যদিকে, বাড়ির সদস্য কামরু উপস্থিত লোকজনের সামনে দাবি করেন, ছৈয়দ আহাম্মদের কাছে থাকা ২ লাখ ২৮ হাজার ৩০০ টাকা বাবুল নামের এক ব্যক্তির কাছে জামানত রাখা হয়েছে। বিষয়টি সমাধানে শনিবার(৯ মে) সন্ধ্যায় হাতিয়া থানায় বৈঠকের কথা থাকলেও তা আর হয়নি। ফলে ছৈয়দ আহাম্মদ এখনো তার ভাতিজা আকতারের তত্বাবধানে রয়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা আলফাজ বলেন,“এত বছর পর আল্লাহ তাকে জীবিত অবস্থায় পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিয়েছেন—এটা আমাদের জন্যও আনন্দের বিষয়। মানুষটা যেন জীবনের শেষ সময়ে আপনজনদের সান্নিধ্য পায়, এটাই চাই।”
এ বিষয়ে হাতিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মো. কবির হোসেন বলেন, স্বজনরা সহযোগিতা চাইলে আইনগতভাবে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে।










