প্রধান সংবাদ

হাতিয়ায় পেট্রোল-অকটেনের তীব্র সংকট: কালোবাজারে লিটার ৩০০-৩৫০ টাকা

নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ায় গত প্রায় এক মাস ধরে পেট্রোল ও অকটেনের তীব্র সংকট চলছে। সরকার অনুমোদিত বৈধ ডিলার ও লাইসেন্সধারী বিক্রেতাদের কাছে তেল না থাকলেও, কালোবাজারে অতিরিক্ত টাকা দিলে মিলছে চাহিদামতো জ্বালানি। প্রতি লিটার পেট্রোল-অকটেন কিনতে ক্রেতাদের গুনতে হচ্ছে ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা। এতে করে চরম বিপাকে পড়েছেন মোটরসাইকেল চালকসহ সাধারণ মানুষ। অথচ সরকারের নতুন নির্ধারিত দামে অকটেন ১৪০ টাকা ও পেট্রোল ১৩৫ টাকায় সারাদেশে বিক্রি করা হচ্ছে।

কালোবাজারিদের পকেটে যাচ্ছে অতিরিক্ত টাকা
স্থানীয়দের অভিযোগ, লাইসেন্সধারী বৈধ বিক্রেতারা সরবরাহ না থাকার অজুহাতে তেল বিক্রি বন্ধ রাখলেও একটি অসাধু চক্র বিপুল পরিমাণ জ্বালানি মজুত করে রেখেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ভুক্তভোগী বাইকার জানান, “যারা এখন বেশি দামে তেল বিক্রি করছেন, তাদের অনেকেই পেশায় তেল বিক্রেতা নন। তারা গোপনে অবৈধভাবে তেল মজুত করে সংকটের সুযোগ নিচ্ছেন। ৩৫০ টাকা দিলেই তাদের কাছে যেকোনো পরিমাণ তেল পাওয়া যাচ্ছে। অথচ আমাদের মতো সাধারণ বাইকাররা তেল না পেয়ে পরিবার চালাতে হিমশিম খাচ্ছি।”

উদ্বিগ্ন খেটে খাওয়া মানুষ
হাতিয়ায় কয়েক হাজার মানুষ মোটরসাইকেল চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন। তেলের দাম তিনগুণ বেড়ে যাওয়ায় তাদের দৈনিক উপার্জন প্রায় বন্ধের মুখে। ভাড়ায় চালিত চালকদের দাবি, বর্ধিত মূল্যে তেল কিনে যাত্রী পরিবহন করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। ফলে তাদের সংসার চালাতে টানাপড়েন তৈরি হচ্ছে।

প্রশাসনের পদক্ষেপ ও বর্তমান পরিস্থিতি
উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সিন্ডিকেট দমনে বিভিন্ন সময়ে পদক্ষেপ নিলেও পরিস্থিতির কোনো উন্নতি হয়নি। লোকচক্ষুর আড়ালে এবং রাতে গোপনে তেল বিক্রি অব্যাহত থাকায় এই সিন্ডিকেট ভাঙা সম্ভব হচ্ছে না।

সিন্ডিকেট ভাঙার দাবি
ভুক্তভোগী বাইকার ও স্থানীয় জনগণের দাবি, অবিলম্বে টাস্কফোর্স গঠনের মাধ্যমে অবৈধ মজুতদারদের আস্তানা চিহ্নিত করে তেল উদ্ধার করতে হবে। পাশাপাশি সিন্ডিকেট ভেঙে দিয়ে উপজেলা প্রশাসনের সরাসরি তত্ত্বাবধানে প্রতি সপ্তাহে বাইকারদের কাছে ন্যায্যমূল্যে তেল সরবরাহের ব্যবস্থা করার জোর দাবি জানান তারা।

এ বিভাগের আরও সংবাদ