দীর্ঘদিন পর দেশের স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন দিয়ে ধাপে ধাপে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু করার কথা রয়েছে। প্রথম ধাপে ইউপি ও পৌরসভা নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।
ইউপি নির্বাচনের তফসিল আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর ঘোষণা করে নভেম্বর থেকে ধাপে ধাপে ভোট নেওয়ার পরিকল্পনা করছে ইসি।
ইসির পরিকল্পনা অনুযায়ী, দেশের স্থানীয় সরকার নির্বাচন একসঙ্গে না করে অঞ্চলভিত্তিক ও ধাপে ধাপে আয়োজন করা হবে। এতে প্রতিটি ধাপের অভিজ্ঞতা মূল্যায়ন করে পরবর্তী ধাপের নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক পরিকল্পনা নির্ধারণ করা হবে। ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, উপজেলা পরিষদ, জেলা পরিষদ ও সিটি করপোরেশন—সব স্তরের নির্বাচন শেষ করতে প্রায় এক বছর সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছে ইসি।
ইসির প্রস্তুতির অংশ হিসেবে বিপুলসংখ্যক ইউনিয়ন পরিষদকে নির্বাচন উপযোগী করা হচ্ছে। একটি তথ্যচিত্রে চলতি বছরে ৩ হাজার ৯৮১টি ইউনিয়ন পরিষদকে নির্বাচন উপযোগী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। দেশে মোট ইউনিয়ন পরিষদের সংখ্যা প্রায় ৪ হাজার ৫৮০টি।
স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে ঘিরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছে নির্বাচন কমিশন। বিশেষ করে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হওয়ায় সংঘাত ও সহিংসতার ঝুঁকি বেশি থাকে।
ইসির পরিকল্পনায় প্রাথমিকভাবে পুলিশ, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও আনসার সদস্যদের দায়িত্বে রেখে নির্বাচন পরিচালনার কথা বলা হয়েছে। প্রতিটি ধাপে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি মূল্যায়ন করে পরবর্তী ধাপের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নির্ধারণ করা হবে।
নির্বাচন ঘিরে অতীতের সহিংসতার পরিসংখ্যানও উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। তথ্যচিত্রে ২০১৬ সালের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ৩৬৬ জন নিহত এবং ২০২১ সালের ইউপি নির্বাচনে ১১৯ জন নিহতের তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। ফলে এবারের নির্বাচনে সহিংসতা ঠেকানোকে অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহারের পরিকল্পনা নেই। ঐতিহ্যবাহী কাগজের ব্যালটের মাধ্যমে ভোটগ্রহণের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি অনলাইনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সুযোগ না রেখে সরাসরি মনোনয়নপত্র দাখিলের ব্যবস্থা রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রার্থীদের জামানতের পরিমাণও বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ইসি বলছে, স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে গ্রহণযোগ্য, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ করতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। এখন মূল লক্ষ্য হচ্ছে নির্বাচন আয়োজনের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রেখে ভোটারদের নিরাপদে ভোট দেওয়ার পরিবেশ নিশ্চিত করা।









