সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬, ১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ম্যানগ্রোভ বন সৃজনের নামে প্রকল্প লুটে খেলেন রেঞ্জ কর্মকর্তা মিজানুর

ছায়েদ আহামেদ
  • প্রকাশিত : শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬। ১০:২২:৩৪ পিএম
  • / 28

নোয়াখালীর উপকূলীয় এলাকায় ম্যানগ্রোভ বন ও সবুজ বেষ্টনী গড়ার নামে সরকারি প্রকল্পের বিপুল অর্থ লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে হাতিয়ার সাগুরিয়া রেঞ্জ কর্মকর্তা মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, কাগজে-কলমে শশত হেক্টর বন সৃজন দেখানো হলেও বাস্তবে এর কোনো অস্তিত্বই নেই।

বিশ্বব্যাংক ও বাংলাদেশ সরকারের যৌথ অর্থায়নে পরিচালিত “হেল্প প্রকল্প”-এর আওতায় উপকূলীয় অঞ্চল, বিশেষ করে হাতিয়ার সাগুরিয়া রেঞ্জ, ভাসানচর ও আশপাশের এলাকায় ম্যানগ্রোভ বন সৃজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। প্রকল্পটির উদ্দেশ্য ছিল জলোচ্ছ্বাস, ঘূর্ণিঝড় ও সামুদ্রিক ঢেউ থেকে উপকূলীয় জনপদ ও ভাসানচরে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের সুরক্ষায় প্রাকৃতিক সবুজ বেষ্টনী গড়ে তোলা।

বন বিভাগের তথ্যানুযায়ী, সাগুরিয়া রেঞ্জের অধীনে চর আলীম (লালচর)-এ ১০০ হেক্টর ম্যানগ্রোভ বন সৃজন করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়। তবে-সরেজমিনে গিয়ে সেখানে বনের কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। সমুদ্রতীর ও বুড়িরদোনা খালের আশপাশ ঘুরে মাত্র অল্প কিছু কেওড়ার নতুন কুঁড়ি দেখা যায়। স্থানীয়দের দাবি, বাস্তবে মাত্র ৪ থেকে ৫ হেক্টর জায়গায় নামমাত্র চারা রোপণ করা হয়েছিল, যা আবার সমুদ্রের ঢেউয়ে ভেসে গেছে।

স্থানীয় জেলে ও রাখালসহ প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গত শীত মৌসুমে দুই-তিন ধাপে ৭০ থেকে ৭৫ জন শ্রমিক দিয়ে সীমিত এলাকায় কেওড়ার চারা রোপণ করা হয়। কিন্তু পরিকল্পনা অনুযায়ী কাদামাটিতে চারা না লাগিয়ে বালুর ওপর লাগানো হয়, ফলে তা টেকেনি।

স্থানীয় মৎস্যজীবী দেলোয়ার হোসেন বেচু বলেন, ফরেস্ট দুই ধাপে ৭৫ থেকে ৮০ জন লেবার দিয়ে ৫/৬ কানি(প্রায় ৯ একর বা ৪ হেক্টর) জমিতে কেওড়ার চারা লাগায় ।
তিনি বলেন,“যেভাবে চারা লাগানো হয়েছে, তাতে এগুলো টিকে থাকার কোনো সুযোগই ছিল না। এখন সেখানে বনের কোনো চিহ্ন নেই।”

একই তথ্য জানান, স্থানীয় টানবাজার এলাকার দুলাল মাঝি, জয়নাল আবেদীন এবং আউয়ালসহ একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী।
লালচর এলাকার মো. রাকিব নামের দুই রাখাল বালক জানান, ৬০ থেকে ৭০ জন লেবার দিয়ে ৪/৫ কানি জমিতে কেওড়ার চারা লাগানো হয়। বালিতে চারা রোপণ করায়- তা ঢেউয়ের সাথে ভেসে গেছে।

জানা যায়, সাগরিয়া রেঞ্জের নৌকাচালক আবুল হাসেমের ভাই কালু সর্দারসহ দুই সর্দারের শ্রমিক দিয়ে এই অল্প কিছু চারা লাগানো হয়। আবুল হাসেম ও কালু সর্দারের সাথে কথা হলে- তারা রেঞ্জ কর্মকর্তার পক্ষে অবস্থান নিয়ে বলেন,” লালচরে বনায়ন করা হয়েছে। তবে বন না টেকলে আমরা কী করব।”

সংশ্লিষ্টদের ভাষ্যমতে, ১০০ হেক্টর ম্যানগ্রোভ বন সৃজনে প্রায় ৪ লাখ ৪৪ হাজার চারা ও অন্তত সাড়ে পাঁচশ’ শ্রমিক প্রয়োজন হয়। অথচ বাস্তবে খুব অল্পসংখ্যক চারা ও সীমিত শ্রমিক ব্যবহার করা হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২০২৫-২৬ অর্থ বছরে একই প্রকল্পের আওতায় সাগুরিয়া রেঞ্জের অধীনে চরআলীম-এ ১০০ হেক্টর, ভাসানচরে ৩২০ হেক্টর এবং জাহাজমারা রেঞ্জের চর বাহাউদ্দীনে ১০০ হেক্টর বন সৃজনের কথা বলা হয়। এছাড়া, ভাসানচর-এ আলেক্সান্ডার, কোম্পানিগঞ্জ এবং চার বাটা’র অধীনেও ম্যানগ্রোভ বন সৃজন করা হয়। তবে সাগুরিয়া রেঞ্জের অধীনে হওয়া বন সৃজনের নামে ব্যাপক অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাৎ হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া যায়। উপজেলার জাহাজমারা রেঞ্জ এর এক কর্মকর্তা জানান, ১ হেক্টর ম্যানগ্রোভ বন সৃজন করতে সরকারিভাবে ২১ থেকে ২৬ হাজার টাকা ধরা হয়। মূলত ভালভাবে বন সৃজন করলে ১৫ হাজার টাকার মতো খরচ হয়।

অভিযোগ রয়েছে, রেঞ্জ কর্মকর্তা মিজানুর রহমান একই সঙ্গে চর আলীম বিট কর্মকর্তার দায়িত্বে থেকে প্রকল্পের অধিকাংশ অর্থ আত্মসাৎ করেছেন। তার অধীনে ভাসানচরে ৩২০ হেক্টর বন সৃজনের নামেও প্রকল্প হরিলুট হয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, বিভাগীয় বন কর্মকর্তার যোগসাজশ ছাড়া এ ধরনের বড় অনিয়ম সম্ভব নয়।

একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, স্পেশাল মনিটরিং টিম সরেজমিনে এলেও নগদ অর্থের বিনিময়ে “আনফিট” বনায়নকে “ফিট” দেখিয়ে প্রতিবেদন দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়।

এদিকে, রেঞ্জ কর্মকর্তা মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে সংরক্ষিত বন, খাল ও খাস জমি নিয়েও একাধিক সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে। যা পরবর্তী পর্বে প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে।

সচেতন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি মো. দুলাল উদ্দিন বলেন, “রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ পরিবেশ প্রকল্প নিয়ে এমন অনিয়ম কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। জড়িতদের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্ত ও কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।”

সিনিয়র সাংবাদিক ও বিশিষ্ট লেখক এম দিলদার উদ্দিন বলেন, “উপকূল রক্ষার নামে কাগজে-কলমে বন দেখিয়ে অর্থ লুট করা শুধু দুর্নীতি নয়, এটি উপকূলবাসীর জীবন ও নিরাপত্তার সঙ্গে প্রতারণা।”

অভিযোগ অস্বীকার করে সাগুরিয়া রেঞ্জ কর্মকর্তা মিজানুর রহমান বলেন, “বিভাগীয় নির্দেশনা অনুযায়ী চর আলীম ও ভাসানচরে নির্ধারিত পরিমাণ চারা রোপণ করা হয়েছে।”

তবে নোয়াখালী উপকূলীয় বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা ও সহকারী বন সংরক্ষকের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা ফোন রিসিভ করেননি। উপকূলীয় অঞ্চল বন সংরক্ষক মোল্যা রেজাউল করিম বলেন, “আমি নতুন দায়িত্ব পেয়েছি, অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এ বিষয়ে জানতে চাইলে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান ও দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ মহিনুজ্জামান বলেন, ম্যানগ্রোভ বন উপকূলীয় অঞ্চলের প্রাকৃতিক রক্ষাকবচ। বন শুধু করলে হবে না, এর রক্ষণাবেক্ষণও জরুরি। কাগজে কলমে হাজার হাজার বন দেখালে হবে না, বাস্তবিক ভাবেও থাকতে হবে। যেকোনো বন সৃজন ও রক্ষণাবেক্ষণে সরকারের দায়িত্বশীল টিমের সঠিক মনিটরিং থাকতে হবে।

প্রধান সংবাদ | ১৩ জুন ২০২৬

ম্যানগ্রোভ বন সৃজনের নামে প্রকল্প লুটে খেলেন রেঞ্জ কর্মকর্তা মিজানুর

বিস্তারিত | hatiyakantha.com

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ারের করুন

ম্যানগ্রোভ বন সৃজনের নামে প্রকল্প লুটে খেলেন রেঞ্জ কর্মকর্তা মিজানুর

প্রকাশিত : ০৪:২২:৩৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬

নোয়াখালীর উপকূলীয় এলাকায় ম্যানগ্রোভ বন ও সবুজ বেষ্টনী গড়ার নামে সরকারি প্রকল্পের বিপুল অর্থ লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে হাতিয়ার সাগুরিয়া রেঞ্জ কর্মকর্তা মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, কাগজে-কলমে শশত হেক্টর বন সৃজন দেখানো হলেও বাস্তবে এর কোনো অস্তিত্বই নেই।

বিশ্বব্যাংক ও বাংলাদেশ সরকারের যৌথ অর্থায়নে পরিচালিত “হেল্প প্রকল্প”-এর আওতায় উপকূলীয় অঞ্চল, বিশেষ করে হাতিয়ার সাগুরিয়া রেঞ্জ, ভাসানচর ও আশপাশের এলাকায় ম্যানগ্রোভ বন সৃজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। প্রকল্পটির উদ্দেশ্য ছিল জলোচ্ছ্বাস, ঘূর্ণিঝড় ও সামুদ্রিক ঢেউ থেকে উপকূলীয় জনপদ ও ভাসানচরে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের সুরক্ষায় প্রাকৃতিক সবুজ বেষ্টনী গড়ে তোলা।

বন বিভাগের তথ্যানুযায়ী, সাগুরিয়া রেঞ্জের অধীনে চর আলীম (লালচর)-এ ১০০ হেক্টর ম্যানগ্রোভ বন সৃজন করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়। তবে-সরেজমিনে গিয়ে সেখানে বনের কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। সমুদ্রতীর ও বুড়িরদোনা খালের আশপাশ ঘুরে মাত্র অল্প কিছু কেওড়ার নতুন কুঁড়ি দেখা যায়। স্থানীয়দের দাবি, বাস্তবে মাত্র ৪ থেকে ৫ হেক্টর জায়গায় নামমাত্র চারা রোপণ করা হয়েছিল, যা আবার সমুদ্রের ঢেউয়ে ভেসে গেছে।

স্থানীয় জেলে ও রাখালসহ প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গত শীত মৌসুমে দুই-তিন ধাপে ৭০ থেকে ৭৫ জন শ্রমিক দিয়ে সীমিত এলাকায় কেওড়ার চারা রোপণ করা হয়। কিন্তু পরিকল্পনা অনুযায়ী কাদামাটিতে চারা না লাগিয়ে বালুর ওপর লাগানো হয়, ফলে তা টেকেনি।

স্থানীয় মৎস্যজীবী দেলোয়ার হোসেন বেচু বলেন, ফরেস্ট দুই ধাপে ৭৫ থেকে ৮০ জন লেবার দিয়ে ৫/৬ কানি(প্রায় ৯ একর বা ৪ হেক্টর) জমিতে কেওড়ার চারা লাগায় ।
তিনি বলেন,“যেভাবে চারা লাগানো হয়েছে, তাতে এগুলো টিকে থাকার কোনো সুযোগই ছিল না। এখন সেখানে বনের কোনো চিহ্ন নেই।”

একই তথ্য জানান, স্থানীয় টানবাজার এলাকার দুলাল মাঝি, জয়নাল আবেদীন এবং আউয়ালসহ একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী।
লালচর এলাকার মো. রাকিব নামের দুই রাখাল বালক জানান, ৬০ থেকে ৭০ জন লেবার দিয়ে ৪/৫ কানি জমিতে কেওড়ার চারা লাগানো হয়। বালিতে চারা রোপণ করায়- তা ঢেউয়ের সাথে ভেসে গেছে।

জানা যায়, সাগরিয়া রেঞ্জের নৌকাচালক আবুল হাসেমের ভাই কালু সর্দারসহ দুই সর্দারের শ্রমিক দিয়ে এই অল্প কিছু চারা লাগানো হয়। আবুল হাসেম ও কালু সর্দারের সাথে কথা হলে- তারা রেঞ্জ কর্মকর্তার পক্ষে অবস্থান নিয়ে বলেন,” লালচরে বনায়ন করা হয়েছে। তবে বন না টেকলে আমরা কী করব।”

সংশ্লিষ্টদের ভাষ্যমতে, ১০০ হেক্টর ম্যানগ্রোভ বন সৃজনে প্রায় ৪ লাখ ৪৪ হাজার চারা ও অন্তত সাড়ে পাঁচশ’ শ্রমিক প্রয়োজন হয়। অথচ বাস্তবে খুব অল্পসংখ্যক চারা ও সীমিত শ্রমিক ব্যবহার করা হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২০২৫-২৬ অর্থ বছরে একই প্রকল্পের আওতায় সাগুরিয়া রেঞ্জের অধীনে চরআলীম-এ ১০০ হেক্টর, ভাসানচরে ৩২০ হেক্টর এবং জাহাজমারা রেঞ্জের চর বাহাউদ্দীনে ১০০ হেক্টর বন সৃজনের কথা বলা হয়। এছাড়া, ভাসানচর-এ আলেক্সান্ডার, কোম্পানিগঞ্জ এবং চার বাটা’র অধীনেও ম্যানগ্রোভ বন সৃজন করা হয়। তবে সাগুরিয়া রেঞ্জের অধীনে হওয়া বন সৃজনের নামে ব্যাপক অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাৎ হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া যায়। উপজেলার জাহাজমারা রেঞ্জ এর এক কর্মকর্তা জানান, ১ হেক্টর ম্যানগ্রোভ বন সৃজন করতে সরকারিভাবে ২১ থেকে ২৬ হাজার টাকা ধরা হয়। মূলত ভালভাবে বন সৃজন করলে ১৫ হাজার টাকার মতো খরচ হয়।

অভিযোগ রয়েছে, রেঞ্জ কর্মকর্তা মিজানুর রহমান একই সঙ্গে চর আলীম বিট কর্মকর্তার দায়িত্বে থেকে প্রকল্পের অধিকাংশ অর্থ আত্মসাৎ করেছেন। তার অধীনে ভাসানচরে ৩২০ হেক্টর বন সৃজনের নামেও প্রকল্প হরিলুট হয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, বিভাগীয় বন কর্মকর্তার যোগসাজশ ছাড়া এ ধরনের বড় অনিয়ম সম্ভব নয়।

একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, স্পেশাল মনিটরিং টিম সরেজমিনে এলেও নগদ অর্থের বিনিময়ে “আনফিট” বনায়নকে “ফিট” দেখিয়ে প্রতিবেদন দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়।

এদিকে, রেঞ্জ কর্মকর্তা মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে সংরক্ষিত বন, খাল ও খাস জমি নিয়েও একাধিক সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে। যা পরবর্তী পর্বে প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে।

সচেতন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি মো. দুলাল উদ্দিন বলেন, “রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ পরিবেশ প্রকল্প নিয়ে এমন অনিয়ম কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। জড়িতদের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্ত ও কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।”

সিনিয়র সাংবাদিক ও বিশিষ্ট লেখক এম দিলদার উদ্দিন বলেন, “উপকূল রক্ষার নামে কাগজে-কলমে বন দেখিয়ে অর্থ লুট করা শুধু দুর্নীতি নয়, এটি উপকূলবাসীর জীবন ও নিরাপত্তার সঙ্গে প্রতারণা।”

অভিযোগ অস্বীকার করে সাগুরিয়া রেঞ্জ কর্মকর্তা মিজানুর রহমান বলেন, “বিভাগীয় নির্দেশনা অনুযায়ী চর আলীম ও ভাসানচরে নির্ধারিত পরিমাণ চারা রোপণ করা হয়েছে।”

তবে নোয়াখালী উপকূলীয় বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা ও সহকারী বন সংরক্ষকের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা ফোন রিসিভ করেননি। উপকূলীয় অঞ্চল বন সংরক্ষক মোল্যা রেজাউল করিম বলেন, “আমি নতুন দায়িত্ব পেয়েছি, অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এ বিষয়ে জানতে চাইলে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান ও দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ মহিনুজ্জামান বলেন, ম্যানগ্রোভ বন উপকূলীয় অঞ্চলের প্রাকৃতিক রক্ষাকবচ। বন শুধু করলে হবে না, এর রক্ষণাবেক্ষণও জরুরি। কাগজে কলমে হাজার হাজার বন দেখালে হবে না, বাস্তবিক ভাবেও থাকতে হবে। যেকোনো বন সৃজন ও রক্ষণাবেক্ষণে সরকারের দায়িত্বশীল টিমের সঠিক মনিটরিং থাকতে হবে।

প্রধান সংবাদ | ১৩ জুন ২০২৬

ম্যানগ্রোভ বন সৃজনের নামে প্রকল্প লুটে খেলেন রেঞ্জ কর্মকর্তা মিজানুর

বিস্তারিত | hatiyakantha.com