শিরোনাম
উপকূল

সাতক্ষীরার বস্তিতে জলবায়ু বাস্তুচ্যুত পরিবারের ৭৪.৯% তীব্র খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায়: খানি বাংলাদেশের গবেষণা

ঘূর্ণিঝড়, বন্যা ও নদীভাঙনে ঘরবাড়ি হারিয়ে সাতক্ষীরা শহরের অনানুষ্ঠানিক বস্তিগুলোতে আশ্রয় নেওয়া পরিবারগুলোর ৭৪ দশমিক ৯ শতাংশ তীব্র খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস উপলক্ষে বুধবার সাতক্ষীরায় আয়োজিত এক বহুপাক্ষিক সংলাপে ‘ডিসপ্লেসড, ডিনায়েড’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করা হয়। গবেষণাটি যৌথভাবে পরিচালনা করে খাদ্য নিরাপত্তা নেটওয়ার্ক (খানি বাংলাদেশ) ও পার্টিসিপেটরি রিসার্চ অ্যান্ড অ্যাকশন নেটওয়ার্ক (প্রান)।

​প্রতিবেদনে সাতক্ষীরা পৌরসভার ৩৫টি বসতির ৩৫৮টি পরিবারের ১,৩৪১ জন সদস্যের তথ্য তুলে ধরা হয়। এতে দেখা যায় পরিবার গুলোতে ​খাদ্য ও পুষ্টিসংকট রয়েছে। ৯৫ দশমিক ৫ শতাংশ পরিবারের কোনো না কোনো সদস্য একবেলা বাদ দিয়েছেন এবং ৫২ দশমিক ২ শতাংশ পরিবারের সদস্য পুরো একদিন অনাহারে থেকেছেন। খাবার জোগাতে ৫৭ দশমিক ৩ শতাংশ পরিবার প্রয়োজনীয় গৃহস্থালি সামগ্রী বিক্রি করেছে।

পরিবার গুলোর মধ্যে সরকারি সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় রয়েছে মাত্র ৭ দশমিক ৫ শতাংশ পরিবার। গত ১২ মাসে ৭৯ দশমিক ১ শতাংশ পরিবার সরকারি বা বেসরকারি কোনো সহায়তা পায়নি। ৯৬ দশমিক ৯ শতাংশ পরিবার লবণাক্ত ও আয়রনযুক্ত অগভীর নলকূপের পানির ওপর নির্ভরশীল। বাসস্থানের স্থায়িত্ব না থাকা, উচ্ছেদ আতঙ্ক, ঋণের চক্র এবং শিশুশ্রম (৩৩.২% শিশুর স্কুলে না যাওয়া ও ৩০% শিশুশ্রমে যুক্ত) পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

​অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. মইনুল ইসলাম মইন এবং সভাপতিত্ব করেন স্বদেশ সাতক্ষীরা-এর নির্বাহী পরিচালক মাধব চন্দ্র দত্ত। সংলাপে বাস্তুচ্যুত নারী, সরকারি কর্মকর্তা, সাংবাদিক ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

​সরকারি কর্মকর্তারা আশ্বাস দেন যে, বাদ পড়া যোগ্য বস্তিবাসীদের তালিকা পেলে দ্রুত ভাতা (বয়স্ক/বিধবা) নিশ্চিত করা হবে। পৌর এলাকার বাইরের ভূমিহীনদের সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী খাসজমি বন্দোবস্ত দেওয়ার সুযোগের কথাও জানান তারা। বক্তারা বাস্তুচ্যুত মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে রিসোর্স ম্যাপিং, সঠিক পরিসংখ্যান তৈরি এবং সমন্বিত দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার তাগিদ দেন।

এ বিভাগের আরও সংবাদ