ভাসানচরকে সন্দ্বীপের আওতায় নেওয়ার উদ্যোগের প্রতিবাদ, বিভাগীয় কমিশনারকে চিঠি
- প্রকাশিত : বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬। ১২:১৫:৪৬ পিএম
ভাসানচরকে সন্দ্বীপ উপজেলার আওতায় ইউনিয়ন পরিষদ গঠনের উদ্যোগের প্রতিবাদ জানিয়ে চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনারের কাছে আবেদনপত্র দিয়েছে সামাজিক সংগঠন ‘সচেতন নাগরিক সমাজ-হাতিয়া’।
গত বৃহস্পতিবার হাতিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে ই-মেইল ও ডাকযোগে এ প্রতিবাদলিপি পাঠানো হয়। সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, ২০১৪ সাল থেকে জনস্বার্থ ও নাগরিক অধিকার রক্ষায় কাজ করে আসা সংগঠনটি। এরই ধারাবাহিকতায় ভাসানচরকে ঘিরে বিভিন্ন মহলের অপতৎপরতা ও সাম্প্রতিক প্রশাসনিক উদ্যোগে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছে সংগঠনটির নেতৃবৃন্দরা।
এতে বলা হয়, ভাসানচর ঐতিহাসিক, ভৌগোলিক ও প্রশাসনিকভাবে নোয়াখালী জেলার হাতিয়া উপজেলার অবিচ্ছেদ্য অংশ। দীর্ঘদিন ধরে এটি ৫নং চরঈশ্বর ইউনিয়নের একটি ওয়ার্ড হিসেবে পরিচালিত হয়ে আসছে। এর স্বপক্ষে ১৯১৩-১৯১৬ সালের সি.এস. জরিপ, ২০১৬-২০১৭ সালের দিয়ারা জরিপ- পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের ২০১২ সালের প্রজ্ঞাপন ও সরকারি গেজেট এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ২০২১ সালের প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে গঠিত ভাসানচর থানার তথ্য উল্লেখ করা হয়।
সংগঠনটির দাবি, ভাসানচরকে সন্দ্বীপ উপজেলার আওতাভুক্ত করার উদ্দেশ্যে ভূমি মন্ত্রণালয়ের গৃহীত পদক্ষেপের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি শেষে গত ২০ এপ্রিল হাইকোর্ট রুল জারি করেন। রুলে সংশ্লিষ্ট স্মারক কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়েছে।
দরখাস্তে আরও বলা হয়, বর্তমানে ভাসানচরের প্রশাসনিক ও উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড হাতিয়া উপজেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হচ্ছে, যা হাতিয়ার সঙ্গে ভাসানচরের কার্যকর প্রশাসনিক সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করেছে।
এতে উল্লেখ করা হয়, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, নোয়াখালীর স্থানীয় সরকার শাখা ২০২২ সালে ভাসানচরের অবস্থান, জনসংখ্যা, অবকাঠামো ও প্রশাসনিক প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় হাতিয়া উপজেলার আওতায় পৃথক ইউনিয়ন পরিষদ গঠনের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দিয়েছিল।
কিন্তু পরবর্তীতে বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় ‘বাংলাদেশ বাঁশ, বেত ও পাটি শিল্প ফাউন্ডেশন’ নামক এক সমিতির রেফারেন্স ব্যবহার করে ২০২৬ সালের ১৫ মার্চ তারিখে এক পত্র জারি করে। পত্রে ভাসানচরকে সন্দ্বীপ উপজেলার আওতায় ইউনিয়ন পরিষদ গঠনের কথা উল্লেখ করে। যা নোয়াখালীর হাতিয়ার দীর্ঘদিনের প্রশাসনিক বাস্তবতা ও সরকারি রেকর্ডের পরিপন্থী বলে দাবি করা হয়।
সচেতন নাগরিক সমাজ-হাতিয়া চার দফা দাবি উত্থাপন করে। দাবিগুলো হলো— ভাসানচরকে হাতিয়া উপজেলার আওতায় পৃথক ইউনিয়ন পরিষদ হিসেবে গঠন, সন্দ্বীপের আওতাভুক্ত করার সব ধরনের উদ্যোগ বাতিল, হাতিয়ার অধীনেই প্রশাসনিক কার্যক্রম অব্যাহত রাখা এবং নতুন ইউনিয়ন প্রতিষ্ঠায় প্রয়োজনীয় জরিপ ও আইনানুগ কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্ন করা।
এদিকে, ভাসানচরকে হাতিয়া থেকে বিচ্ছিন্ন করার সম্ভাব্য উদ্যোগের খবর ছড়িয়ে পড়লে হাতিয়ার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট, চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতি ও চট্টগ্রাম কর আইনজীবী সমিতির সদস্য অ্যাডভোকেট মাহবুবুল ইসলাম বলেন, “ঐতিহাসিক দলিল, সরকারি গেজেট ও মানচিত্র অনুযায়ী ভাসানচর হাতিয়ার সীমানার অন্তর্ভুক্ত। বিষয়টি নিয়ে বর্তমানে হাইকোর্টের রুলও বিদ্যমান রয়েছে।”
তবে চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের স্থানীয় সরকার শাখার পরিচালক মনোয়ারা বেগম বলেন, “এ ধরনের সিদ্ধান্ত নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে নেওয়া হয়।”
প্রধান সংবাদ | ১৮ জুন ২০২৬
ভাসানচরকে সন্দ্বীপের আওতায় নেওয়ার উদ্যোগের প্রতিবাদ, বিভাগীয় কমিশনারকে চিঠি


















