শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মেঘনার ডুবোচরে দুই ঘণ্টা আটকা ফেরি, দুর্ভোগে যাত্রীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত : মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬। ৭:২৩:৪৫ পিএম
  • / 23
নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার চেয়ারম্যান ঘাট-নলচিরা নৌপথে চলাচলকারী যাত্রী ও যানবাহনবাহী ফেরি ‘মহানন্দা’ মেঘনা নদীর মাঝপথে ডুবোচরে আটকা পড়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন দুই শতাধিক যাত্রী। প্রায় দুই ঘণ্টা ফেরিটি আটকে থাকায় যাত্রীদের পাশাপাশি পণ্যবাহী যানবাহনও গন্তব্যে পৌঁছাতে বিলম্বের মুখে পড়ে।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সকাল ৮টার দিকে চেয়ারম্যান ঘাট থেকে নলচিরা ঘাটের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাওয়ার পর মেঘনা নদীর মাঝপথে ডুবোচরে আটকে যায় ফেরিটি।

ফেরির মাস্টার মো. করিম জানান, ফেরিটিতে প্রায় দুই শতাধিক যাত্রী এবং ১৬টি পণ্যবাহী ও বিভিন্ন ধরনের যানবাহন ছিল। নদীতে তীব্র নাব্যতা সংকট এবং ভাটার সময় ফেরি চলাচলের কারণে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

ফেরি আটকে যাওয়ায় যাত্রীদের মধ্যে চরম ভোগান্তি দেখা দেয়। জরুরি কাজে যাতায়াতকারী অনেকেই বাধ্য হয়ে কাঠের নৌকায় করে গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। তবে নারী, শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ যাত্রীদের দুর্ভোগ ছিল সবচেয়ে বেশি। দীর্ঘ সময় নদীর মাঝখানে আটকে থাকায় যাত্রীদের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

ফেরির যাত্রীরা জানান, মেঘনা নদীর এই নৌপথে দীর্ঘদিন ধরে নাব্যতা সংকট বিরাজ করছে। নিয়মিত ও কার্যকর ড্রেজিং না হওয়ায় প্রায়ই ফেরি চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। বর্ষা মৌসুম শেষে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তারা। দ্রুত নৌপথ খননের মাধ্যমে স্থায়ী সমাধানের দাবি জানান ভুক্তভোগীরা।

ফেরির মাস্টার মো. করিম বলেন, “ঘাটে নাব্যতা সংকটসহ নানা কারণে নির্ধারিত সময়ের কিছু পরে ফেরি ছাড়তে হয়েছে। সকাল ৭টা ৪০ মিনিটের দিকে ভাটার শেষ সময়ে যাত্রা শুরু করায় মাঝনদীর ডুবোচরে আটকে যায় ফেরিটি। পরে দুপুরের দিকে জোয়ারের পানি বাড়লে ফেরিটি ভাসতে শুরু করে এবং পুনরায় যাত্রা শুরু করি। নাব্যতা সংকট এতটাই প্রকট যে ঘাটে পৌঁছানোর পরও প্রায় দুই ঘণ্টা যানবাহন ও মালামাল আনলোড করা সম্ভব হয়নি।”

স্থানীয়দের অভিযোগ, চেয়ারম্যান ঘাট-নলচিরা নৌপথে দীর্ঘদিন ধরে নাব্যতা সংকট থাকলেও কার্যকর ড্রেজিং না হওয়ায় ফেরি চলাচলে বারবার বিঘ্ন ঘটছে। এতে হাতিয়ার সঙ্গে মূল ভূখণ্ডের গুরুত্বপূর্ণ এই নৌযোগাযোগে প্রায়ই দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন সাধারণ যাত্রী ও ব্যবসায়ীরা। তারা দ্রুত নৌপথে ড্রেজিং করে নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন ফেরি চলাচল নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

প্রধান সংবাদ | ১৪ জুলাই ২০২৬

মেঘনার ডুবোচরে দুই ঘণ্টা আটকা ফেরি, দুর্ভোগে যাত্রীরা

বিস্তারিত | hatiyakantha.com
বিষয় :

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ারের করুন

মেঘনার ডুবোচরে দুই ঘণ্টা আটকা ফেরি, দুর্ভোগে যাত্রীরা

প্রকাশিত : ০১:২৩:৪৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬
নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার চেয়ারম্যান ঘাট-নলচিরা নৌপথে চলাচলকারী যাত্রী ও যানবাহনবাহী ফেরি ‘মহানন্দা’ মেঘনা নদীর মাঝপথে ডুবোচরে আটকা পড়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন দুই শতাধিক যাত্রী। প্রায় দুই ঘণ্টা ফেরিটি আটকে থাকায় যাত্রীদের পাশাপাশি পণ্যবাহী যানবাহনও গন্তব্যে পৌঁছাতে বিলম্বের মুখে পড়ে।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সকাল ৮টার দিকে চেয়ারম্যান ঘাট থেকে নলচিরা ঘাটের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাওয়ার পর মেঘনা নদীর মাঝপথে ডুবোচরে আটকে যায় ফেরিটি।

ফেরির মাস্টার মো. করিম জানান, ফেরিটিতে প্রায় দুই শতাধিক যাত্রী এবং ১৬টি পণ্যবাহী ও বিভিন্ন ধরনের যানবাহন ছিল। নদীতে তীব্র নাব্যতা সংকট এবং ভাটার সময় ফেরি চলাচলের কারণে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

ফেরি আটকে যাওয়ায় যাত্রীদের মধ্যে চরম ভোগান্তি দেখা দেয়। জরুরি কাজে যাতায়াতকারী অনেকেই বাধ্য হয়ে কাঠের নৌকায় করে গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। তবে নারী, শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ যাত্রীদের দুর্ভোগ ছিল সবচেয়ে বেশি। দীর্ঘ সময় নদীর মাঝখানে আটকে থাকায় যাত্রীদের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

ফেরির যাত্রীরা জানান, মেঘনা নদীর এই নৌপথে দীর্ঘদিন ধরে নাব্যতা সংকট বিরাজ করছে। নিয়মিত ও কার্যকর ড্রেজিং না হওয়ায় প্রায়ই ফেরি চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। বর্ষা মৌসুম শেষে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তারা। দ্রুত নৌপথ খননের মাধ্যমে স্থায়ী সমাধানের দাবি জানান ভুক্তভোগীরা।

ফেরির মাস্টার মো. করিম বলেন, “ঘাটে নাব্যতা সংকটসহ নানা কারণে নির্ধারিত সময়ের কিছু পরে ফেরি ছাড়তে হয়েছে। সকাল ৭টা ৪০ মিনিটের দিকে ভাটার শেষ সময়ে যাত্রা শুরু করায় মাঝনদীর ডুবোচরে আটকে যায় ফেরিটি। পরে দুপুরের দিকে জোয়ারের পানি বাড়লে ফেরিটি ভাসতে শুরু করে এবং পুনরায় যাত্রা শুরু করি। নাব্যতা সংকট এতটাই প্রকট যে ঘাটে পৌঁছানোর পরও প্রায় দুই ঘণ্টা যানবাহন ও মালামাল আনলোড করা সম্ভব হয়নি।”

স্থানীয়দের অভিযোগ, চেয়ারম্যান ঘাট-নলচিরা নৌপথে দীর্ঘদিন ধরে নাব্যতা সংকট থাকলেও কার্যকর ড্রেজিং না হওয়ায় ফেরি চলাচলে বারবার বিঘ্ন ঘটছে। এতে হাতিয়ার সঙ্গে মূল ভূখণ্ডের গুরুত্বপূর্ণ এই নৌযোগাযোগে প্রায়ই দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন সাধারণ যাত্রী ও ব্যবসায়ীরা। তারা দ্রুত নৌপথে ড্রেজিং করে নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন ফেরি চলাচল নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

প্রধান সংবাদ | ১৪ জুলাই ২০২৬

মেঘনার ডুবোচরে দুই ঘণ্টা আটকা ফেরি, দুর্ভোগে যাত্রীরা

বিস্তারিত | hatiyakantha.com