শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

লঞ্চে কলেজছাত্রীকে ধর্ষণের প্রতিবাদে হাতিয়ায় এনসিপি–বিএনপি পাল্টাপাল্টি বিক্ষোভ, সংঘর্ষে আহত ৭

জিল্লুর রহমান রাসেল
  • প্রকাশিত : মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬। ১০:০৫:২৯ পিএম
  • / 71

লঞ্চের কেবিনে ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির এক ছাত্রীকে ধর্ষণের ঘটনার প্রতিবাদে নোয়াখালীর হাতিয়ায় পৃথকভাবে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে এনসিপি ও বিএনপির নেতাকর্মীরা। এসময় দুই পক্ষের মুখোমুখি অবস্থানের একপর্যায়ে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ৭ জন আহত হয়েছেন।

মঙ্গলবার (১০ মার্চ) সন্ধ্যায় উপজেলা সদরে এ প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। মিছিল থেকে ধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্ত সাকিব উদ্দিন ও নুরুজ্জামান মিঠুর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সন্ধ্যার দিকে এনসিপি ও বিএনপির নেতাকর্মীরা পৃথকভাবে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে উপজেলা সদরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করেন। একপর্যায়ে দুই পক্ষের মিছিল মুখোমুখি হলে উত্তেজনা সৃষ্টি হয় এবং হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত সাতজন আহত হন।

আহতরা হলেন, হাতিয়া উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক ইসমাইল হোসেন ইলিয়াস, পৌরসভা ছাত্রদলের আহ্বায়ক শরিফুল ইসলাম দুখু, পৌর যুবদল নেতা আশিক ও সাখাওয়াত হোসেন হিরো। অপরদিকে আহত হয়েছেন হাতিয়া উপজেলা যুবশক্তির আহ্বায়ক ইউসুফ রেজা, ছাত্রশক্তির আহ্বায়ক নেয়ামত উল্লাহ নীরব এবং সমর্থক জহির উদ্দিন। আহতদের স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

জানা যায়, গত ৮ মার্চ রোববার দুপুরে হাতিয়ার তমুরদ্দিন লঞ্চঘাট থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাওয়া ফারহান-০৪ লঞ্চের ৩২৮ নম্বর কেবিনে ওই কলেজছাত্রীকে তুলে দেন তার বাবা। একই সময় লঞ্চে ওঠেন মোহাম্মদ সাকিব উদ্দিন ও মোহাম্মদ নুরুজ্জামান মিঠু। লঞ্চ ছাড়ার কিছুক্ষণ পর তারা ওই ছাত্রীর কেবিনের দরজায় নক করেন এবং কৌশলে কেবিনে প্রবেশ করেন।

এজাহারে উল্লেখ করা হয়, কেবিনে ঢুকে একপর্যায়ে সাকিব উদ্দিন ওই ছাত্রীকে বিভিন্ন ধরনের কুপ্রস্তাব দেন। এতে রাজি না হলে তারা তার গলা ও মুখ চেপে ধরেন। এসময় নুরুজ্জামান মিঠু তার মোবাইল ফোনটি কেড়ে নিয়ে কেবিন থেকে বের হয়ে যান। পরে সাকিব উদ্দিন দরজা বন্ধ করে তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন।

এসময় ভুক্তভোগী চিৎকার করার চেষ্টা করলে ঘটনাটি কাউকে জানালে হত্যার হুমকি দেওয়া হয় বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে রাত ৮টার দিকে সাকিব ও মিঠু আবারও কেবিনে প্রবেশ করলে ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদর্শন করে তারা তাকে পুনরায় ধর্ষণ করে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। বর্তমানে ধর্ষণের শিকার ওই শিক্ষার্থী ঢাকার ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর ভাই বাদী হয়ে সোমবার সকালে কোতোয়ালি থানায় মামলা দায়ের করেন। পরে অভিযুক্ত দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— মোহাম্মদ সাকিব উদ্দিন (২৬), হাতিয়া উপজেলার বুড়িরচর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড পশ্চিম বড়দেইল গ্রামের সাহাব উদ্দিনের ছেলে এবং মোহাম্মদ নুরুজ্জামান মিঠু (৩২), একই ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড জোটখালী গ্রামের আবুল কালামের ছেলে।

হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কবির উদ্দিন বলেন, বিক্ষোভ মিছিলে উভয় পক্ষের হাতাহাতির খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। যদি কেউ লিখিত অভিযোগ দেয় সে বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

প্রধান সংবাদ | ১০ মার্চ ২০২৬

লঞ্চে কলেজছাত্রীকে ধর্ষণের প্রতিবাদে হাতিয়ায় এনসিপি–বিএনপি পাল্টাপাল্টি বিক্ষোভ, সংঘর্ষে আহত ৭

বিস্তারিত | hatiyakantha.com

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ারের করুন

লঞ্চে কলেজছাত্রীকে ধর্ষণের প্রতিবাদে হাতিয়ায় এনসিপি–বিএনপি পাল্টাপাল্টি বিক্ষোভ, সংঘর্ষে আহত ৭

প্রকাশিত : ০৪:০৫:২৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬

লঞ্চের কেবিনে ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির এক ছাত্রীকে ধর্ষণের ঘটনার প্রতিবাদে নোয়াখালীর হাতিয়ায় পৃথকভাবে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে এনসিপি ও বিএনপির নেতাকর্মীরা। এসময় দুই পক্ষের মুখোমুখি অবস্থানের একপর্যায়ে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ৭ জন আহত হয়েছেন।

মঙ্গলবার (১০ মার্চ) সন্ধ্যায় উপজেলা সদরে এ প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। মিছিল থেকে ধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্ত সাকিব উদ্দিন ও নুরুজ্জামান মিঠুর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সন্ধ্যার দিকে এনসিপি ও বিএনপির নেতাকর্মীরা পৃথকভাবে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে উপজেলা সদরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করেন। একপর্যায়ে দুই পক্ষের মিছিল মুখোমুখি হলে উত্তেজনা সৃষ্টি হয় এবং হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত সাতজন আহত হন।

আহতরা হলেন, হাতিয়া উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক ইসমাইল হোসেন ইলিয়াস, পৌরসভা ছাত্রদলের আহ্বায়ক শরিফুল ইসলাম দুখু, পৌর যুবদল নেতা আশিক ও সাখাওয়াত হোসেন হিরো। অপরদিকে আহত হয়েছেন হাতিয়া উপজেলা যুবশক্তির আহ্বায়ক ইউসুফ রেজা, ছাত্রশক্তির আহ্বায়ক নেয়ামত উল্লাহ নীরব এবং সমর্থক জহির উদ্দিন। আহতদের স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

জানা যায়, গত ৮ মার্চ রোববার দুপুরে হাতিয়ার তমুরদ্দিন লঞ্চঘাট থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাওয়া ফারহান-০৪ লঞ্চের ৩২৮ নম্বর কেবিনে ওই কলেজছাত্রীকে তুলে দেন তার বাবা। একই সময় লঞ্চে ওঠেন মোহাম্মদ সাকিব উদ্দিন ও মোহাম্মদ নুরুজ্জামান মিঠু। লঞ্চ ছাড়ার কিছুক্ষণ পর তারা ওই ছাত্রীর কেবিনের দরজায় নক করেন এবং কৌশলে কেবিনে প্রবেশ করেন।

এজাহারে উল্লেখ করা হয়, কেবিনে ঢুকে একপর্যায়ে সাকিব উদ্দিন ওই ছাত্রীকে বিভিন্ন ধরনের কুপ্রস্তাব দেন। এতে রাজি না হলে তারা তার গলা ও মুখ চেপে ধরেন। এসময় নুরুজ্জামান মিঠু তার মোবাইল ফোনটি কেড়ে নিয়ে কেবিন থেকে বের হয়ে যান। পরে সাকিব উদ্দিন দরজা বন্ধ করে তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন।

এসময় ভুক্তভোগী চিৎকার করার চেষ্টা করলে ঘটনাটি কাউকে জানালে হত্যার হুমকি দেওয়া হয় বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে রাত ৮টার দিকে সাকিব ও মিঠু আবারও কেবিনে প্রবেশ করলে ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদর্শন করে তারা তাকে পুনরায় ধর্ষণ করে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। বর্তমানে ধর্ষণের শিকার ওই শিক্ষার্থী ঢাকার ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর ভাই বাদী হয়ে সোমবার সকালে কোতোয়ালি থানায় মামলা দায়ের করেন। পরে অভিযুক্ত দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— মোহাম্মদ সাকিব উদ্দিন (২৬), হাতিয়া উপজেলার বুড়িরচর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড পশ্চিম বড়দেইল গ্রামের সাহাব উদ্দিনের ছেলে এবং মোহাম্মদ নুরুজ্জামান মিঠু (৩২), একই ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড জোটখালী গ্রামের আবুল কালামের ছেলে।

হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কবির উদ্দিন বলেন, বিক্ষোভ মিছিলে উভয় পক্ষের হাতাহাতির খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। যদি কেউ লিখিত অভিযোগ দেয় সে বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

প্রধান সংবাদ | ১০ মার্চ ২০২৬

লঞ্চে কলেজছাত্রীকে ধর্ষণের প্রতিবাদে হাতিয়ায় এনসিপি–বিএনপি পাল্টাপাল্টি বিক্ষোভ, সংঘর্ষে আহত ৭

বিস্তারিত | hatiyakantha.com