বুধবার, ০৩ জুন ২০২৬, ১৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এক বছরেও শেষ করেনি পাম্পের কাজ, বিল তুলে নিল ঠিকাদার

ছায়েদ আহামেদ, হাতিয়া
  • প্রকাশিত : বৃহস্পতিবার, ১ জানুয়ারি ২০২৬। ৫:০৫:২০ পিএম
  • / 52

নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলায় নিরাপদ পানি সরবরাহ প্রকল্পের আওতায় সাবমারসিবল পাম্প স্থাপনে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। মাসের পর মাস অফিসে ঘুরেও সমাধান পাচ্ছেন না সুবিধাভোগীরা। কোনোরকম পাম্প বসালেও হয়নি বাকি কাজ। কাগজে-কলমে কিছু কাজ দেখিয়ে তোলা হয়েছে প্রকল্পের প্রায় সব টাকা।

হাতিয়া উপজেলা জনস্বাস্থ্য উপ-সহকারী প্রকৌশলীর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে নিরাপদ পানি সরবরাহ প্রকল্পের আওতায় হাতিয়াতে ১৪৪টি আর্সেনিকমুক্ত সাবমারসিবল পাম্প বরাদ্দ হয়। এসব নলকূপ স্থাপনের কাজ পায় মেসার্স মোজাহারুল ইসলাম ও মাহমুদুর রহমান নামে দু’টি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।

এদের মধ্যে ৭২টি পাম্প স্থাপনের দায়িত্ব পায় মেসার্স মোজাহারুল ইসলাম। এক কোটি ১৬ লাখ ৪৯ হাজার ৮৮৭ টাকার গৃহীত এ কাজ প্রতিষ্ঠানটি নিয়ম-নীতি উপেক্ষা করে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ব্যাপক অনিয়মের মাধ্যমে স্থাপন করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

নিয়মানুযায়ী, প্রান্তিক পর্যায়ের পরিবার ব্যাংকের মাধ্যমে সরকারি ফি বাবদ ১০ হাজার টাকা জমা দিয়ে সুবিধাভোগীর আওতায় আসে। পরে সুবিধাভোগীদের নির্ধারণ করা স্থানে সাবমারসিবল পাম্প স্থাপন করে ঠিকাদার। পাম্প স্থাপনের পর ওই স্থানে ৫ ফুট উচ্চতার একটি পাকা হাউজে পানির ট্যাংক বসাতে হবে। আবার নিচে ৪ ফুট দৈর্ঘ্য ৫ ফুট প্রস্থ নিয়ে একটি জায়গা পাকাকরণসহ একটা ডিস্ট্রিবিউশন চেম্বার ও ভাল মানের ১ হর্স মোটরসহ মালপত্র লাগিয়ে ব্যবহারের উপযোগী করবে ঠিকাদার। কার্যাদেশের ১৮০দিনের(৬ মাস) মধ্যে এসমস্ত কাজ বুঝে নেবেন উপজেলা জনস্বাস্থ্য উপ-সহকারীর কার্যালয়। কাজ বাস্তবায়ন হলে তাদের দেওয়া প্রত্যয়নে ঠিকাদারের বিল পরিশোধ করবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

অভিযোগ আছে, মেসার্স মোজাহারুল ইসলাম এর সত্ত্বাধিকারী সৌরভ ইসলাম জসি নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে বিভিন্ন দুর্নীতি ও অনিয়মের মাধ্যমে পাম্পসমূহ স্থাপন করেন। প্রতিটি সুবিধাভোগী পরিবার থেকে শ্রমিকদের খাওয়া খরচের নামে সাড়ে ৩ হাজার থেকে সাড়ে ৪ হাজার টাকা গ্রহন করেছেন তিনি। পাইপ স্থাপনে তিনটি করে ফিল্টার দেওয়ার কথা থাকলেও দেওয়া হচ্ছে দু’টি; পাবলিক থেকে আরেকটির নগদ টাকা (৫০০ থেকে ৭০০ টাকা করে) নিয়ে তার কর্মচারীরা মোট তিনটির হিসাব দিচ্ছে।

এছাড়া, ভালোমানের মোটর যুক্ত করার কথা থাকলেও ‘লীরা’ নামের এক বেনামি কোম্পানির মোটর চিকন সুতা দিয়ে স্থাপন করছে। যা অল্পসময়ের মধ্যে অকার্যকর হয়ে যাবে বলে মনে করেন সুবিধাভোগীরা।

২০২৫ সালের ২০ জানুয়ারি কার্যাদেশ পেয়ে ১ বছর অতিবাহিত করলে-ও পাম্প স্থাপন পরবর্তী বাকি কোনো কাজই করাননি।
সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল সূত্র থেকে জানা যায়, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও দায়িত্বরত কর্মকর্তা-কর্মচারীর যোগসাজশে কাগজে-কলমে কাজ বাস্তবায়ন দেখিয়ে প্রকল্পের টাকা লুটপাট করা হচ্ছে। কাজ না করেই প্রায় পুরো বিল তারা উত্তোলন করে নিয়েছে। শুধু অফিস ম্যানেজ করে প্রতিষ্ঠানটির প্রোপ্রাইটর সৌরভ ইসলাম জসি এসব অনিয়ম-দুর্নীতি করে যাচ্ছে। বিভিন্ন নামে তার কয়েকটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। খুলনা অঞ্চল ছাড়া দেশের প্রায় সব এলাকায় এসব প্রতিষ্ঠানের নামে তিনি কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন বলে খোঁজ পাওয়া যায়।

উপজেলার চরকিং ইউনিয়ন ৯নং ওয়ার্ডের রাকিবুল হাসান একটি সাবমারসিবল পাম্প বরাদ্দ পান। নলকূপটি স্থাপন করেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স মোজাহারুল ইসলাম। স্থাপনের সময় খাওয়া খরচের নামে প্রথমে তার থেকে সাড়ে ৩ হাজার টাকা নেয় মিস্ত্রিরা। সুবিধাভোগী রাকিবুল হাসান বলেন, “খাওয়া খরচ পরবর্তী আমার থেকে আরো ৭০০টাকা নেয় একটা ফিল্টারের জন্য। ‘লীরা’ নামের বেনামী কোম্পানির একটি মোটর চিকন সুতা দিয়ে যুক্ত করতে চাইলে- আমি মার্কেট থেকে ৭০ ফুট তার ২ হাজার ১০০ টাকা দিয়ে কিনে এনে স্থাপন করাই।

বুড়িরচর ইউনিয়ন ১নং ওয়ার্ডের অলি উদ্দিনও এ প্রকল্পে মেসার্স মোজাহারুল ইসলাম প্রতিষ্ঠানের আওতায় একটি সাবমারসিবল পাম্প বরাদ্দ পান। সুবিধাভোগী অলি উদ্দিন বলেন,” খাওয়া খরচের নামে আমার থেকে ৪ হাজার টাকা নিয়েছে। টুকিটাকি আরো খরচ দেখিয়ে কিছু নিয়েছে। ‘লীরা’ নামের বেনামী কোম্পানির মোটরটি স্থাপন করেছে চিকন একটা সুতা দিয়ে। ” তিনি জানান, কোনোমতে পাম্প স্থাপন করলেও এখন পর্যন্ত ট্যাংক বসানো ও পাকাকরণসহ বাকি কাজ পড়ে আছে। এদের মতো সকল সুবিধাভোগী পানির ট্যাংক, প্লাটফর্মসহ মালপত্রের জন্য অফিসে মাসের পর মাস ঘুরেও সমাধান পাচ্ছেন না।

প্রতিষ্ঠানটির অনিয়ম এখানেই শেষ নয়- গত দুই বছর আগে চরকিং ইউনিয়নস্থ খাসের হাট জামে মসজিদে স্থাপিত সাবমারসিবল পাম্পে দেড় হর্সের মোটর এবং একটা ডিস্ট্রিবিউশন চেম্বার বসানোর কথা থাকলেও দেওয়া হয়েছে ১ হর্সের মোটর। তবে ডিস্ট্রিবিউশন চেম্বার বসানো হয়নি। এ কারণে মসজিদ কর্তৃক কাজ সমাপ্তির প্রত্যয়নও দেয়নি বলে জানান, মসজিদের মুয়াজ্জিন জহিরুল ইসলাম। অথচ সব ধরনের কাজ কাগজে-কলমে বাস্তবায়ন দেখানো হয়েছে বলে জানা যায়।

অভিযোগের বিষয়ে ঠিকাদার সৌরভ ইসলাম জসি’র সাথে বার বার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। এদিকে মেসার্স মাহমুদুর রহমান এর চলমান কাজের আওতায় হাতিয়া পৌরসভা ৬নং ওয়ার্ডের মো.ইরান একটি সাবমারসিবল পাম্প বরাদ্দ পান। বুধবার(৩১ ডিসেম্বর) সকালে সরেজমিনে গিয়ে সুবিধাভোগী ইরানের সাথে কথা হলে তিনি জানান, তার পাম্পটি ঠিকঠাক ভাবে স্থাপন করা হয়েছে। এক্ষেত্রে সরকারি খরচ ছাড়া তার থেকে কোনো টাকা নেওয়া হয়নি।

হাতিয়া উপজেলা জনস্বাস্থ্য উপ-সহকারী প্রকৌশলী এমদাদ হোসেন হাতিয়া কন্ঠকে বলেন, প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করার জন্য আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।

নোয়াখালী জেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আহসান হাবিব জানান, মেসার্স মোজাহারুল ইসলাম এর সত্ত্বাধিকারীর হাতে কাজ সহজে আদায় করা যাচ্ছে না। ঠিকাদার দেশের বিভিন্ন এলাকায় কাজ করান, সব জায়গায় তার একই অবস্থা।

উপকূল | ১ জানুয়ারি ২০২৬

এক বছরেও শেষ করেনি পাম্পের কাজ, বিল তুলে নিল ঠিকাদার

বিস্তারিত | hatiyakantha.com

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ারের করুন

এক বছরেও শেষ করেনি পাম্পের কাজ, বিল তুলে নিল ঠিকাদার

প্রকাশিত : ১১:০৫:২০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ জানুয়ারী ২০২৬

নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলায় নিরাপদ পানি সরবরাহ প্রকল্পের আওতায় সাবমারসিবল পাম্প স্থাপনে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। মাসের পর মাস অফিসে ঘুরেও সমাধান পাচ্ছেন না সুবিধাভোগীরা। কোনোরকম পাম্প বসালেও হয়নি বাকি কাজ। কাগজে-কলমে কিছু কাজ দেখিয়ে তোলা হয়েছে প্রকল্পের প্রায় সব টাকা।

হাতিয়া উপজেলা জনস্বাস্থ্য উপ-সহকারী প্রকৌশলীর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে নিরাপদ পানি সরবরাহ প্রকল্পের আওতায় হাতিয়াতে ১৪৪টি আর্সেনিকমুক্ত সাবমারসিবল পাম্প বরাদ্দ হয়। এসব নলকূপ স্থাপনের কাজ পায় মেসার্স মোজাহারুল ইসলাম ও মাহমুদুর রহমান নামে দু’টি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।

এদের মধ্যে ৭২টি পাম্প স্থাপনের দায়িত্ব পায় মেসার্স মোজাহারুল ইসলাম। এক কোটি ১৬ লাখ ৪৯ হাজার ৮৮৭ টাকার গৃহীত এ কাজ প্রতিষ্ঠানটি নিয়ম-নীতি উপেক্ষা করে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ব্যাপক অনিয়মের মাধ্যমে স্থাপন করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

নিয়মানুযায়ী, প্রান্তিক পর্যায়ের পরিবার ব্যাংকের মাধ্যমে সরকারি ফি বাবদ ১০ হাজার টাকা জমা দিয়ে সুবিধাভোগীর আওতায় আসে। পরে সুবিধাভোগীদের নির্ধারণ করা স্থানে সাবমারসিবল পাম্প স্থাপন করে ঠিকাদার। পাম্প স্থাপনের পর ওই স্থানে ৫ ফুট উচ্চতার একটি পাকা হাউজে পানির ট্যাংক বসাতে হবে। আবার নিচে ৪ ফুট দৈর্ঘ্য ৫ ফুট প্রস্থ নিয়ে একটি জায়গা পাকাকরণসহ একটা ডিস্ট্রিবিউশন চেম্বার ও ভাল মানের ১ হর্স মোটরসহ মালপত্র লাগিয়ে ব্যবহারের উপযোগী করবে ঠিকাদার। কার্যাদেশের ১৮০দিনের(৬ মাস) মধ্যে এসমস্ত কাজ বুঝে নেবেন উপজেলা জনস্বাস্থ্য উপ-সহকারীর কার্যালয়। কাজ বাস্তবায়ন হলে তাদের দেওয়া প্রত্যয়নে ঠিকাদারের বিল পরিশোধ করবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

অভিযোগ আছে, মেসার্স মোজাহারুল ইসলাম এর সত্ত্বাধিকারী সৌরভ ইসলাম জসি নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে বিভিন্ন দুর্নীতি ও অনিয়মের মাধ্যমে পাম্পসমূহ স্থাপন করেন। প্রতিটি সুবিধাভোগী পরিবার থেকে শ্রমিকদের খাওয়া খরচের নামে সাড়ে ৩ হাজার থেকে সাড়ে ৪ হাজার টাকা গ্রহন করেছেন তিনি। পাইপ স্থাপনে তিনটি করে ফিল্টার দেওয়ার কথা থাকলেও দেওয়া হচ্ছে দু’টি; পাবলিক থেকে আরেকটির নগদ টাকা (৫০০ থেকে ৭০০ টাকা করে) নিয়ে তার কর্মচারীরা মোট তিনটির হিসাব দিচ্ছে।

এছাড়া, ভালোমানের মোটর যুক্ত করার কথা থাকলেও ‘লীরা’ নামের এক বেনামি কোম্পানির মোটর চিকন সুতা দিয়ে স্থাপন করছে। যা অল্পসময়ের মধ্যে অকার্যকর হয়ে যাবে বলে মনে করেন সুবিধাভোগীরা।

২০২৫ সালের ২০ জানুয়ারি কার্যাদেশ পেয়ে ১ বছর অতিবাহিত করলে-ও পাম্প স্থাপন পরবর্তী বাকি কোনো কাজই করাননি।
সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল সূত্র থেকে জানা যায়, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও দায়িত্বরত কর্মকর্তা-কর্মচারীর যোগসাজশে কাগজে-কলমে কাজ বাস্তবায়ন দেখিয়ে প্রকল্পের টাকা লুটপাট করা হচ্ছে। কাজ না করেই প্রায় পুরো বিল তারা উত্তোলন করে নিয়েছে। শুধু অফিস ম্যানেজ করে প্রতিষ্ঠানটির প্রোপ্রাইটর সৌরভ ইসলাম জসি এসব অনিয়ম-দুর্নীতি করে যাচ্ছে। বিভিন্ন নামে তার কয়েকটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। খুলনা অঞ্চল ছাড়া দেশের প্রায় সব এলাকায় এসব প্রতিষ্ঠানের নামে তিনি কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন বলে খোঁজ পাওয়া যায়।

উপজেলার চরকিং ইউনিয়ন ৯নং ওয়ার্ডের রাকিবুল হাসান একটি সাবমারসিবল পাম্প বরাদ্দ পান। নলকূপটি স্থাপন করেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স মোজাহারুল ইসলাম। স্থাপনের সময় খাওয়া খরচের নামে প্রথমে তার থেকে সাড়ে ৩ হাজার টাকা নেয় মিস্ত্রিরা। সুবিধাভোগী রাকিবুল হাসান বলেন, “খাওয়া খরচ পরবর্তী আমার থেকে আরো ৭০০টাকা নেয় একটা ফিল্টারের জন্য। ‘লীরা’ নামের বেনামী কোম্পানির একটি মোটর চিকন সুতা দিয়ে যুক্ত করতে চাইলে- আমি মার্কেট থেকে ৭০ ফুট তার ২ হাজার ১০০ টাকা দিয়ে কিনে এনে স্থাপন করাই।

বুড়িরচর ইউনিয়ন ১নং ওয়ার্ডের অলি উদ্দিনও এ প্রকল্পে মেসার্স মোজাহারুল ইসলাম প্রতিষ্ঠানের আওতায় একটি সাবমারসিবল পাম্প বরাদ্দ পান। সুবিধাভোগী অলি উদ্দিন বলেন,” খাওয়া খরচের নামে আমার থেকে ৪ হাজার টাকা নিয়েছে। টুকিটাকি আরো খরচ দেখিয়ে কিছু নিয়েছে। ‘লীরা’ নামের বেনামী কোম্পানির মোটরটি স্থাপন করেছে চিকন একটা সুতা দিয়ে। ” তিনি জানান, কোনোমতে পাম্প স্থাপন করলেও এখন পর্যন্ত ট্যাংক বসানো ও পাকাকরণসহ বাকি কাজ পড়ে আছে। এদের মতো সকল সুবিধাভোগী পানির ট্যাংক, প্লাটফর্মসহ মালপত্রের জন্য অফিসে মাসের পর মাস ঘুরেও সমাধান পাচ্ছেন না।

প্রতিষ্ঠানটির অনিয়ম এখানেই শেষ নয়- গত দুই বছর আগে চরকিং ইউনিয়নস্থ খাসের হাট জামে মসজিদে স্থাপিত সাবমারসিবল পাম্পে দেড় হর্সের মোটর এবং একটা ডিস্ট্রিবিউশন চেম্বার বসানোর কথা থাকলেও দেওয়া হয়েছে ১ হর্সের মোটর। তবে ডিস্ট্রিবিউশন চেম্বার বসানো হয়নি। এ কারণে মসজিদ কর্তৃক কাজ সমাপ্তির প্রত্যয়নও দেয়নি বলে জানান, মসজিদের মুয়াজ্জিন জহিরুল ইসলাম। অথচ সব ধরনের কাজ কাগজে-কলমে বাস্তবায়ন দেখানো হয়েছে বলে জানা যায়।

অভিযোগের বিষয়ে ঠিকাদার সৌরভ ইসলাম জসি’র সাথে বার বার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। এদিকে মেসার্স মাহমুদুর রহমান এর চলমান কাজের আওতায় হাতিয়া পৌরসভা ৬নং ওয়ার্ডের মো.ইরান একটি সাবমারসিবল পাম্প বরাদ্দ পান। বুধবার(৩১ ডিসেম্বর) সকালে সরেজমিনে গিয়ে সুবিধাভোগী ইরানের সাথে কথা হলে তিনি জানান, তার পাম্পটি ঠিকঠাক ভাবে স্থাপন করা হয়েছে। এক্ষেত্রে সরকারি খরচ ছাড়া তার থেকে কোনো টাকা নেওয়া হয়নি।

হাতিয়া উপজেলা জনস্বাস্থ্য উপ-সহকারী প্রকৌশলী এমদাদ হোসেন হাতিয়া কন্ঠকে বলেন, প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করার জন্য আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।

নোয়াখালী জেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আহসান হাবিব জানান, মেসার্স মোজাহারুল ইসলাম এর সত্ত্বাধিকারীর হাতে কাজ সহজে আদায় করা যাচ্ছে না। ঠিকাদার দেশের বিভিন্ন এলাকায় কাজ করান, সব জায়গায় তার একই অবস্থা।

উপকূল | ১ জানুয়ারি ২০২৬

এক বছরেও শেষ করেনি পাম্পের কাজ, বিল তুলে নিল ঠিকাদার

বিস্তারিত | hatiyakantha.com