দ্বীপ হাতিয়া: ভয়ংকর এক অন্ধকার জনপদের নাম
- প্রকাশিত : রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬। ১:১২:১০ এএম
আমার জন্ম বঙ্গোপসাগরের কোলে বাংলাদেশের এক পশ্চাৎপদ জনপদ দ্বীপ হাতিয়ার দরিদ্র কৃষক পরিবারে। ২০০২ সালে মাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর আমি দ্বীপ হাতিয়া ছেড়েছি। নিজের জন্মস্থান হলেও আজ অবধি আমি ঐ দ্বীপে বসবাসের ন্যূন্যতম আকাঙ্ক্ষাও পোষণ করি না! এই দ্বীপের প্রায় প্রত্যেকেই ছোটখাটো স্বৈরাচার। আমার এই বক্তব্যে অনেকে ক্রুদ্ধ বা ক্ষুব্ধ হতে পারেন কিন্তু তবুও আমি এই বক্তব্য নিয়ে অনুতপ্ত হবো না।
কয়েক বছর আগে হাতিয়া থেকে চট্টগ্রামের উদ্দেশ্য রওয়ানা করার জন্য আমি হাতিয়া-চট্রগ্রাম গামী লঞ্চের টিকিটের জন্য লাইনে দাঁড়ালাম। আমার সামনে লোক ছিল ১৬ জন অর্থাৎ সিরিয়ালে আমি ছিলাম ১৭ তম। কিন্তু অবাক করার বিষয় হলো আমি টিকিট পেয়েছি ৩১৩ জনের পর। এখানে প্রত্যেকটি মানুষ নিজেকে রাজাধিরাজ মনে করে। যে যার ইচ্ছে মতো লাফালাফি করে কিংবা ১০/২০ টাকা দালালকে দিয়ে টিকিট ম্যানেজ করে ফেলেছে।
এই দ্বীপে প্রতিনিয়ত মানুষের মধ্যে পৈশাচিক সব প্রতিযোগিতা চলে। বাংলাদেশের মধ্যে হাতিয়া দ্বীপ আলাদা একটা রাষ্ট্র। এখানে পেশিশক্তি নমস্য এবং ভদ্রতা এখানে উপহাস ও দুর্বলতার প্রতীক। আমার ফ্রেন্ড লিস্টে বহু সুশীল হাতিয়া বাসী আছেন যাদের গা’য়ে লাগবে আমার কথাগুলো কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে এইসব সুশীলরাও একটা বড় সুবিধাবাদী। এইসব সুশীলরাও একেকজন একেকটা দলীয় মতাদর্শের ভাঁড়।
হাতিয়া দ্বীপের পাশবিক কোন সংবাদ নিয়ে আমি আঁতকে উঠি না বরং এমনটাই হওয়ার কথা ভেবে পৈশাচিক নির্লিপ্ততায় থেমে যাই। এখানে ভ্রাতৃত্ব, সহানুভূতি, মানবিকতা, সহনশীলতা এগুলো প্রায় অপরিচিত শব্দ। লুটেরা, ডাকাত, জলদস্যু, ভূমিদস্যু, নিপীড়ক, উৎপীড়করা এখানকার সবচেয়ে শ্রদ্ধাভাজন ব্যক্তিত্ব! এবং এদের পা চাটা লোকের সংখ্যা হাজার হাজার। উচিত কথা বলতে গেলে আপনি এই দ্বীপে নৃশংস আক্রমণের শিকার হবেন।
এখানকার দরিদ্র জনগণ যেমন নিপীড়িত আবার তারা নিজেরা ভয়ংকর নিপীড়কও! নিপীড়িত যখন নিপীড়ক হয় তখন সেটা হয়ে উঠে ভয়ংকর পাশবিক। এই দ্বীপের সাড়ে সাত লক্ষ মানুষের মধ্যে যাদের কিছুটা বিবেকবোধ আছে তারা প্রায় সকলেই অখ্যাত বা অপরিচিত। অর্থাৎ এদেরকে কেউ চিনেনই না। এই ভয়ংকর দ্বীপে তাই মানবিকতা ও বিবেক বোধের সূর্য অনুদিত থেকেই যায়।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে, নির্বাচনের দিন এবং তার পরবর্তী সময়ে এখানে সহস্র পাশবিক ঘটনা ঘটেই চলেছে। এই পাশবিকতা থামবে না…… এটা থামার মতো কোন ভবিষ্যত লক্ষণও নেই….। এই লেখায় কারও মনে আঘাত লাগলে আমাকে গালি দিয়ে তালি দিবেন কিন্তু তাতে আমার কিচ্ছু যায়-আসে না।
প্রধান সংবাদ | ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
দ্বীপ হাতিয়া: ভয়ংকর এক অন্ধকার জনপদের নাম
















