হাতিয়ায় ঝড়ে বিদ্যালয়ের একাংশ ধ্বসে পড়ায় পাঠদানে ভোগান্তি
- প্রকাশিত : সোমবার, ৬ এপ্রিল ২০২৬। ১১:১৪:৫১ এএম
নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার সুখচর ইউনিয়নে অবস্থিত হেদায়েত হোসেন উচ্চ বিদ্যালয়ের একটি অংশ ঝড়ের কবলে ধ্বসে পড়েছে। এতে করে বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক পাঠদান কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে দেখা দিয়েছে চরম দুর্ভোগ।
সোমবার (৬ এপ্রিল) সকালে শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে এসে এ বিপর্যস্ত চিত্র দেখতে পায়। এর আগে রোববার সন্ধ্যায় আকস্মিক ঝড়ের আঘাতে বিদ্যালয়ের একটি অংশ ভেঙে পড়ে। ফলে বর্তমানে ছোট চারটি কক্ষে শিক্ষার্থীদের স্থান সংকুলান না হওয়ায় অধিকাংশ শিক্ষার্থী খোলা আকাশের নিচে ও গাছের ছায়ায় সময় পার করতে বাধ্য হচ্ছে।
বিদ্যালয় ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯৯৪ সালে সমাজসেবক হেদায়েত হোসেন সুখচর ইউনিয়নে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করেন। এটি এলাকাটির একমাত্র উচ্চ বিদ্যালয় হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। ২০২২ সালে বিদ্যালয়টি এমপিওভুক্ত হয়। বর্তমানে এখানে ১১ জন এমপিওভুক্ত শিক্ষক এবং ৫ জন গেস্ট শিক্ষক কর্মরত রয়েছেন। নদীভাঙনের ঝুঁকি বৃদ্ধি পাওয়ায় ২০২১ সালে বিদ্যালয়ের একটি ক্যাম্পাস বুড়িরচর ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ড গুল্যাখালী এলাকায় স্থানান্তর করা হয়। যেখানে একটি ৫ তলা ভবন নির্মিত হয়েছে। বর্তমানে মূল ক্যাম্পাসে প্রায় ২০০ জন এবং দ্বিতীয় ক্যাম্পাসে প্রায় ৩৫০ জন শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত রয়েছে।
বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী মো. হাসিব বলেন, “এটি হঠাৎ করে ধসে পড়েনি, দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত ছিল। ভবনটি একদিকে হেলে ছিল। প্রধান শিক্ষক কামরুল ইসলাম কচি এর সংস্কারের কোনো উদ্যোগ নেয়নি। ফলে সামান্য ঝড়েই টিনসেড অংশ ভেঙে পড়ে।”
অন্য এক সাবেক শিক্ষার্থী মো. রাফি অভিযোগ করে বলেন, “প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম কচি গত পাঁচ বছরে এই ক্যাম্পাসে তেমন কোনো উন্নয়ন কাজ করেননি। জরাজীর্ণ অংশ সংস্কারে কোনো উদ্যোগ না নেওয়ায় আজ এই অবস্থা।” এলাকাবাসী দ্রুত উপজেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করে জানান, বিদ্যালয়টি দ্রুত সংস্কার করা হলে শিক্ষার্থীরা স্বাভাবিকভাবে পাঠদান কার্যক্রমে ফিরতে পারবে।
হেদায়েত হোসেন উচ্চ বিদ্যালয়ের নবগঠিত এলামনাই এসোসিয়েশনের সাংগঠনিক সম্পাদক এম আর করিম শামীম বলেন, ‘শুধুমাত্র প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা কালবৈশাখী ঝড়ে বিদ্যালয় ধ্বসে পড়েছে এটা আমরা বিশ্বাস করি না। আমরা মনে করি প্রধান শিক্ষকসহ দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষের বছরের পর বছর বিদ্যালয়ের প্রতি চরম অবহেলা এবং অবকাঠামো উন্নয়নে দায়িত্বহীনতার কারণেই এই স্ট্রাকচার দুর্বল হয়ে গিয়েছিল। যা সামান্য বাতাসও সহ্য করতে পারেনি।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা উর্ধ্বতন প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষের কাছে আকুল আবেদন জানাচ্ছি, অতি দ্রুত এই ক্যাম্পাস সংস্কার করে পড়ালেখার পরিবেশ উপযোগী করা হোক। একইসাথে প্রধান শিক্ষকের গাফিলতির যথাযথ তদন্ত করে উনার বিরুদ্ধে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করে, বিদ্যালয়ের মূল ক্যাম্পাস স্থায়ীভাবে সুখচর ইউনিয়নে রাখার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হোক।’
অভিযোগের বিষয়ে প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম (কচি) বলেন, “২০১৯ সালে দায়িত্ব গ্রহণের পর ধ্বসে পড়া অংশসহ বিভিন্ন কাজ করা হয়েছে। তবে নদীভাঙনের কারণে নতুন কোনো বরাদ্দ পাওয়া যাচ্ছে না।”
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাসেল ইকবাল জানান, সংশ্লিষ্ট বিভাগের সঙ্গে আলোচনা করে বিদ্যালয়টির ক্ষতিগ্রস্ত অংশ দ্রুত মেরামতের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সময় পেলে আজই সরেজমিনে গিয়ে স্কুলটি দেখে আসব।
বিদ্যালয়ের এ পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয়দের মাঝে উদ্বেগ বিরাজ করছে এবং দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জোরালো হচ্ছে।
প্রধান সংবাদ | ৬ এপ্রিল ২০২৬
হাতিয়ায় ঝড়ে বিদ্যালয়ের একাংশ ধ্বসে পড়ায় পাঠদানে ভোগান্তি















