রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬, ১৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ব্রেইল পদ্ধতির বই সংকটে ভোগান্তিতে চবির দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীরা

ইয়াসিন আরাফাত রায়হান
  • প্রকাশিত : রবিবার, ৩০ আগস্ট ২০২৬। ১১:৫১:০৪ পিএম
  • / 5

বিসিএসের প্রস্তুতি নেওয়া পরীক্ষার্থীদের জন্য হলগুলোতে বই প্রদান করা হয়েছে। কিন্তু ব্রেইল পদ্ধতিতে বইগুলোর সংস্করণ না থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীরা।

সম্প্রতি চবি ক্যাম্পাসে কথা হয় কয়েকজন দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীর সঙ্গে। তারা বলেন, আমরা বই পড়তে পারি না। বইয়ের জ্ঞানের আলো আমাদেরকে স্পর্শ করে না। বই পড়তে আমাদেরকে ব্রেইল পদ্ধতি বা এরকম কিছুই দেওয়া হয়নি।

চবির বিজয়২৪ হল ছাত্রসংসদের কার্যনির্বাহী সদস্য দৃষ্টিহীন শিক্ষার্থী আয়েশা আক্তার তন্নী বলেন, আমরা জানি ব্রেইল পদ্ধতিতে অনেক খরচ হয়, তবে সেটি না দিলেও অন্তত কম্পিউটার দোকান থেকে অনলাইন পিডিএফ বানিয়ে দিতে পারতো। অথচ এগুলো চবি প্রশাসনের দায়িত্ব। চাকসুর সমাজসেবা বিভাগের ইশতাহারেও বিষয়টি উল্লেখ ছিল। ১১ মাস পরেও ব্রেইল পদ্ধতির বই পাইনি।

শুধু তন্নীই নন, দৃষ্টিহীন আরও বহু শিক্ষার্থী এই সমস্যায় ভুগছেন। দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য ব্রেইল কোনো বিলাসিতা নয় উল্লেখ করে চবির সমাজতত্ত্ব বিভাগের ২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ মাহবুব জামান বলেন, অডিও বই ও স্ক্রিন রিডার আমাদের শেখার সুযোগ তৈরি করলেও বানান, শব্দের গঠন, বিরামচিহ্ন ও লিখিত ভাষার দক্ষতা অর্জনে ব্রেইলের বিকল্প নেই। দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য ব্রেইল কোনো বিলাসিতা নয়, এটি শিক্ষার মৌলিক অধিকার ও প্রয়োজন।

প্রতিবন্ধী ছাত্রসমাজ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (ডিস্কো) সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সোহেল রানা অভিযোগ করে বলেন, চাকসু নির্বাচনের আগে বিভিন্ন প্রার্থীর ইশতেহারে প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য ব্রেইল প্রিন্টারসহ নানা সহায়তার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। নির্বাচনের পরেও আমরা বিষয়টি নিয়ে নিয়মিত খোঁজখবর নিয়েছি এবং জানতে পেরেছি, ব্রেইল প্রিন্টারের জন্য বাজেট ও বিল পাস হয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত প্রিন্টারটি আমরা পাইনি। বিশ্ববিদ্যালয়ে দৃষ্টি প্রতিবন্ধীর সংখ্যা প্রায় এক শতাধিক।

জানতে চাইলে চাকসুর সমাজসেবা ও পরিবেশ সম্পাদক তাহসিনা রহমান বলেন, আমার বিভাগের জন্য মোট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ২৫ লাখ টাকা। এরমধ্যে ব্রেইল পদ্ধতির জন্য বরাদ্দের ৫ লাখ টাকা এখনো হাতে পাইনি। টাকা আমার হাতে নাই, আমাকে ফান্ড দেওয়া হয় নাই। ব্রেইল ইস্যুতে চবি প্রশাসনকে আবেদন জানিয়েছি তারা যেন উপকরণগুলো কিনে আমাকে দিয়ে দেয়, তাহলে আমি এগুলো বণ্টন করে দিতে পারবো।

প্রধান সংবাদ | ৩০ আগস্ট ২০২৬

ব্রেইল পদ্ধতির বই সংকটে ভোগান্তিতে চবির দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীরা

বিস্তারিত | hatiyakantha.com

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ারের করুন

ব্রেইল পদ্ধতির বই সংকটে ভোগান্তিতে চবির দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীরা

প্রকাশিত : ০৫:৫১:০৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬

বিসিএসের প্রস্তুতি নেওয়া পরীক্ষার্থীদের জন্য হলগুলোতে বই প্রদান করা হয়েছে। কিন্তু ব্রেইল পদ্ধতিতে বইগুলোর সংস্করণ না থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীরা।

সম্প্রতি চবি ক্যাম্পাসে কথা হয় কয়েকজন দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীর সঙ্গে। তারা বলেন, আমরা বই পড়তে পারি না। বইয়ের জ্ঞানের আলো আমাদেরকে স্পর্শ করে না। বই পড়তে আমাদেরকে ব্রেইল পদ্ধতি বা এরকম কিছুই দেওয়া হয়নি।

চবির বিজয়২৪ হল ছাত্রসংসদের কার্যনির্বাহী সদস্য দৃষ্টিহীন শিক্ষার্থী আয়েশা আক্তার তন্নী বলেন, আমরা জানি ব্রেইল পদ্ধতিতে অনেক খরচ হয়, তবে সেটি না দিলেও অন্তত কম্পিউটার দোকান থেকে অনলাইন পিডিএফ বানিয়ে দিতে পারতো। অথচ এগুলো চবি প্রশাসনের দায়িত্ব। চাকসুর সমাজসেবা বিভাগের ইশতাহারেও বিষয়টি উল্লেখ ছিল। ১১ মাস পরেও ব্রেইল পদ্ধতির বই পাইনি।

শুধু তন্নীই নন, দৃষ্টিহীন আরও বহু শিক্ষার্থী এই সমস্যায় ভুগছেন। দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য ব্রেইল কোনো বিলাসিতা নয় উল্লেখ করে চবির সমাজতত্ত্ব বিভাগের ২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ মাহবুব জামান বলেন, অডিও বই ও স্ক্রিন রিডার আমাদের শেখার সুযোগ তৈরি করলেও বানান, শব্দের গঠন, বিরামচিহ্ন ও লিখিত ভাষার দক্ষতা অর্জনে ব্রেইলের বিকল্প নেই। দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য ব্রেইল কোনো বিলাসিতা নয়, এটি শিক্ষার মৌলিক অধিকার ও প্রয়োজন।

প্রতিবন্ধী ছাত্রসমাজ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (ডিস্কো) সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সোহেল রানা অভিযোগ করে বলেন, চাকসু নির্বাচনের আগে বিভিন্ন প্রার্থীর ইশতেহারে প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য ব্রেইল প্রিন্টারসহ নানা সহায়তার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। নির্বাচনের পরেও আমরা বিষয়টি নিয়ে নিয়মিত খোঁজখবর নিয়েছি এবং জানতে পেরেছি, ব্রেইল প্রিন্টারের জন্য বাজেট ও বিল পাস হয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত প্রিন্টারটি আমরা পাইনি। বিশ্ববিদ্যালয়ে দৃষ্টি প্রতিবন্ধীর সংখ্যা প্রায় এক শতাধিক।

জানতে চাইলে চাকসুর সমাজসেবা ও পরিবেশ সম্পাদক তাহসিনা রহমান বলেন, আমার বিভাগের জন্য মোট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ২৫ লাখ টাকা। এরমধ্যে ব্রেইল পদ্ধতির জন্য বরাদ্দের ৫ লাখ টাকা এখনো হাতে পাইনি। টাকা আমার হাতে নাই, আমাকে ফান্ড দেওয়া হয় নাই। ব্রেইল ইস্যুতে চবি প্রশাসনকে আবেদন জানিয়েছি তারা যেন উপকরণগুলো কিনে আমাকে দিয়ে দেয়, তাহলে আমি এগুলো বণ্টন করে দিতে পারবো।

প্রধান সংবাদ | ৩০ আগস্ট ২০২৬

ব্রেইল পদ্ধতির বই সংকটে ভোগান্তিতে চবির দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীরা

বিস্তারিত | hatiyakantha.com