শিরোনাম
প্রধান সংবাদ

হাতিয়া দ্বীপের মানুষের কল্যাণে কাজ করতে চান তাসলিম আলম সেলিম

আরও পড়ুন

গ্রাম থেকে উঠে এসে রাজধানী ঢাকায় প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পরও নাড়ির টান ভোলেননি তরুণ উদ্যোক্তা মোহাম্মদ তাসলিম আলম সেলিম। জন্মভূমি নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার মানুষের কল্যাণ ও এলাকার উন্নয়নে নতুন করে একগুচ্ছ পরিকল্পনা ও স্বপ্ন নিয়ে কাজ শুরু করেছেন তিনি। নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার তমরুদ্দি এলাকায় জন্ম নেওয়া তাসলিম আলম সেলিম দীর্ঘ সংগ্রাম ও প্রতিকূলতা পেরিয়ে আজ সফল ব্যবসায়ী। বর্তমানে তিনি রিক্রুটিং এজেন্সি ‘ডেজার্ট লাইফ ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড’-এর ম্যানেজিং ডিরেক্টর হিসেবে সুনামের সঙ্গে ব্যবসা পরিচালনা করছেন। সম্প্রতি মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক এক আয়োজনে জনশক্তি রপ্তানি শিল্পে বিশেষ অবদানের জন্য তিনি অর্জন করেছেন ‘ডব্লিউডব্লিউও গ্লোবাল এক্সিলেন্স লিডারশিপ অ্যাওয়ার্ড’।

সোমবার রাজধানীর নয়া পল্টনে পাক্ষিক হাতিয়া কন্ঠকে দেওয়া সাক্ষাতকারে তাসলিম আলম সেলিম তার জীবনের গল্প ও হাতিয়াকে নিয়ে স্বপ্নের কথা তুলে ধরেন।

১৯৯৯ সালে এসএসসি পাসের পর নোয়াখালীতে উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করেন তাসলিম আলম সেলিম। ছাত্রজীবন থেকেই তিনি সমাজকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তিনি ‘হাতিয়া ছাত্র কল্যাণ পরিষদ নোয়াখালী’ সভাপতি হিসেবে শিক্ষার্থীদের কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

পরবর্তীতে ঢাকায় কর্মজীবন শুরু করে ২০১৭ সালে রিক্রুটিং ব্যবসার লাইসেন্স পান। দীর্ঘ এক দশক ধরে এই খাতে কাজ করে সৌদি আরব, দুবাই, ওমান, কাতার, মালয়েশিয়া ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশে জনশক্তি রপ্তানি করছেন। ব্যবসা ও সমাজসেবা নিয়ে নিজের অনুভূতির কথা জানাতে গিয়ে তিনি বলেন, “হাতিয়া থেকে নোয়াখালী, তারপর ঢাকা—আমার এই জার্নিটা খুব কঠিন ছিল। সংগ্রাম করে একটি পর্যায়ে এসে পৌঁছানোর যে স্বপ্ন দেখেছিলাম, তা আজ সত্যি হয়েছে। কিন্তু নিজের এলাকার প্রতি দায়বদ্ধতা আমি কখনো ভুলিনি। অতীতে আমরা ‘বাংলাদেশ কুটির, হাতিয়া’ সংগঠনের মাধ্যমে প্রায় ৬০ থেকে ৭০টি গৃহহীন পরিবারকে ঘর তৈরি করে দিয়েছিলাম। মাঝে কিছু জটিলতার কারণে কাজ বন্ধ থাকলেও, আমরা নতুন করে সেই মানবিক প্রজেক্ট চালু করার উদ্যোগ নিচ্ছি।”

হাতিয়াকে একটি সুন্দর ও সমৃদ্ধ অঞ্চল হিসেবে গড়ে তোলার প্রক্রিয়ায় যুক্ত হওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে তিনি বলেন, “আমরা একটি সুন্দর হাতিয়ার স্বপ্ন দেখি। সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে আমি এবং আমার শুভাকাঙ্ক্ষীরা মিলে হাতিয়ার উন্নয়নে অংশীদার হতে চাচ্ছি।” সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে যেন সামনের দিনগুলোতে দেশ ও মানুষের সেবা করে যেতে পারেন, সে জন্য তিনি সবার দোয়া ও সহযোগিতা কামনা করেছেন।

নিজ প্রতিষ্ঠান ডেজার্ট লাইফ ইন্টারন্যাশনাল সম্পর্কে সেলিম বলেন, প্রবাস গমনপ্রত্যাশী সাধারণ মানুষ যেন দালাল বা মধ্যস্বত্বভোগীদের খপ্পরে পড়ে সর্বস্বান্ত না হন, সে লক্ষ্যে তার প্রতিষ্ঠান সরাসরি সেবা প্রদান করছে। “সততা, বিশ্বস্ততা ও অঙ্গিকার’—এই তিন নীতিকে সামনে রেখে আমরা কাজ করি। গ্রামের সাধারণ মানুষ যাতে কম খরচে ও নিরাপদে বিদেশে যেতে পারেন, আমরা সেই সুযোগ তৈরি করছি। সরকার আগামী পাঁচ বছরে এক কোটি জনশক্তি বিদেশে পাঠানোর যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে, আমরাও তার অংশীদার হিসেবে কাজ করছি। বিশেষ করে নতুন করে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার চালু হওয়ায় আমরা সততার সঙ্গে সেবা দিতে প্রস্তুত।”

এ বিভাগের আরও সংবাদ