শিরোনাম
প্রধান সংবাদ

নদী ভাঙ্গনে হাতিয়া দ্বীপের 'স্থায়ী ঠিকানা’ হারানো ক্লীন্টন পেলেন না চাকরির নিয়োগপত্র

আরও পড়ুন

নদী ভাঙ্গনে নোয়াখালীর হাতিয়া দ্বীপের ‘স্থায়ী ঠিকানা’ হারানো ক্লীন্টন সাহা পেলেন না সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক চাকরির নিয়োগপত্র। তিনি লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে চট্টগ্রামের ডবলমুরিং থানার মেধাক্রমে দ্বিতীয় হয়েছিলেন। পেয়েছিলেন নিয়োগের জন্য সুপারিশও।

ক্লীন্টন সাহা গণমাধ্যমকে জানায়, নদী ভাঙনের পর নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলায় অল্প যেটুকু পারিবারিক জমি ছিল, সেটা বিক্রি করে ২১ বছর আগে চট্টগ্রাম নগরীর ডবলমুরিং থানার মোগলটুলি এলাকার প্রফেসর গলিতে ভাড়া বাসায় থাকেন তার পরিবার। পরিবারের একমাত্র ছেলেটির দিকেই তাকিয়ে বৃদ্ধ মা-বাবা ও ছোট বোন।

জানা গেছে, ডবলমুরিংয়ে ১২ জন নিয়োগের জন্য মনোনীত হন। এরমধ্যে এ বছর মার্চে ৫ জন এবং দ্বিতীয় দফায় গত মাসে আরো ছয়জন নিয়োগপত্র পান। শুধু ক্লীন্টন সাহা নিয়োগপত্র পায়নি।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয়ে যোগাযোগ করেন জানিয়ে ক্লীন্টন সাহা বলেন, “উনারা বলেছেন, এটা শিক্ষা থানাভিত্তিক চাকরি। এখানে স্থায়ী ঠিকানা না হলে নিয়োগ হবে না।”

ক্লীন্টন সাহা জানান, “যেহেতু আদি বাড়িতে ভিটা ও ঘর নেই, তাই এখন পর্যন্ত যত চাকরির আবেদন করেছি, সেগুলোতে এই বাসার ঠিকানাই দিয়েছি। আমি মেধার ভিত্তিতে চাকরির জন্য চূড়ান্তভাবে মনোননীত হয়েছি। শুধু স্থায়ী ঠিকানা না থাকায় নিয়োগপত্র পাইনি। আমার চাকরিটা পরিবারের জন্য খুব প্রয়োজন।”

তিন বোন ও এক ভাইয়ের মধ্যে সবার ছোট ক্লীন্টন সাহা। বড় দুই বোনের বিয়ে হয়েছে। ছোট বোনও লেখাপড়া শেষ করেছেন। বৃদ্ধ মা-বাবা ও এক বোন নিয়ে এখন ক্লীন্টনের সংসার চলছে ভাই-বোনের টিউশনের আয়ে।

ক্লীন্টন সাহা ২০১৪ সালে নগরীর পাঠানটুলী সিটি করপোরেশন বালক উচ্চবিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক এবং দেওয়ানহাট সিটি করপোরেশন কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক পাস করেন। পরে চট্টগ্রাম কলেজ থেকে পদার্থ বিজ্ঞানে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শেষ করেন।

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক নিয়োগের জন্য মনোনীত ৫৫১ জনের মধ্যে থেকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা না দেওয়ায় ২৪ জনকে বাদ দেওয়া হয়। বাকি ৫২৭ জনের মধ্যে ৫২৫ জনকে নিয়োগপত্র দেওয়া হয়েছে।

এ বিভাগের আরও সংবাদ