শিরোনাম
প্রধান সংবাদ

ইউপি নির্বাচন: হান্নান মাসুদের ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে আলোচনায় যারা

আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন ঘিরে নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার ৯ নম্বর বুড়িরচর ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে শুরু হয়েছে আলোচনা। স্থানীয় সংসদ সদস্য আব্দুল হান্নান মাসুদের ইউনিয়ন হিসেবে পরিচিত এই এলাকায় কে কে প্রার্থী হতে পারেন, তা নিয়ে চলছে নানা হিসাব-নিকাশ। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চেয়ারম্যান পদে এবার ডজনখানেক সম্ভাব্য প্রার্থীর নাম আলোচনায় রয়েছে। এরমধ্যে সবচেয়ে বেশি হচ্ছেন স্থানীয় বিএনপি নেতা। ইতোমধ্যে অনেকেই নির্বাচনী মাঠ-সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিজেদের প্রচারণা এবং অবস্থান জানান দিচ্ছেন।

এদিকে, গত ১৩ অক্টোবর ইসির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সাড়ে চার হাজার ইউপির মধ্যে ৫ ধাপে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। প্রথম ধাপের ভোট হবে আগামী বছরের ২১ জানুয়ারি, দ্বিতীয় ধাপের ভোট ৪ ফেব্রুয়ারি, তৃতীয় ধাপে ২৯ এপ্রিল নির্বাচন হবে। চতুর্থ ধাপের ভোটের তারিখ ১৩ মে এবং পঞ্চম ও শেষ ধাপে ২৭ মে নির্বাচন হবে।

আলোচনায় রয়েছেন যারা:
নয়টি ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত প্রায় ৫০ হাজার ভোটারের বুড়িরচর ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে আলোচনায় রয়েছেন বিএনপি নেতা মো. নাসির উদ্দিন। তিনি হাতিয়া উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক। ২০১৬ সালে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করেছিলেন তিনি। এবারও দলীয় সমর্থন পাওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী নাসির উদ্দিন। হাতিয়া কণ্ঠকে তিনি বলেন, ‘দল আমাকে সমর্থন করবে বলে আশাবাদী। আমি বুড়িরচর ইউনিয়নের মানুষের সেবা করতে প্রস্তুত আছি। আশা করছি, জনগণ আমাকে ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করবে।’

এদিকে, সাবেক চেয়ারম্যান জিয়া আলী মোবারক কল্লোলও এবার নির্বাচনে অংশ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন। ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে আওয়ামী লীগ-সমর্থিত প্রার্থী হিসেবে তিনি দুবার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন। চেয়ারম্যান পদে আলোচনায় রয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর হাতিয়া উপজেলা শাখার সাবেক সেক্রেটারি নুর উদ্দিন মেশকাত। দলের পক্ষ থেকে তাকে সমর্থন দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। তিনি বলেন, ‘দলের সমর্থনে আমি নির্বাচন করব। এলাকার মানুষের জন্য ভালো কিছু করতে চাই।’ অন্যদিকে, বুড়িরচর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি কাফি ফরাজিও নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। দলীয় সমর্থন পাওয়ার ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী এই নেতা বলেন, ‘আমি নির্বাচন করব এবং দল থেকে আমাকেই সমর্থন করা হবে, এ বিষয়ে আমি শতভাগ নিশ্চিত। আমাকে ছাড়া দল অন্য কাউকে সমর্থন দেবে, এমন কোনো অপশন দেখছি না।’

এনসিপি থেকে কোনো প্রার্থী দেওয়া হবে কি না, সে বিষয়ে সংসদ সদস্য আব্দুল হান্নান মাসুদের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও কথা বলা সম্ভব হয়নি। তবে বুড়িরচর ইউনিয়ন এনসিপির সভাপতি নিজাম উদ্দিন হাতিয়া কণ্ঠকে জানিয়েছেন, দল থেকে তাকে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার জন্য বারবার সমর্থনের কথা বলা হলেও তিনি আগ্রহী নন বলে জানিয়ে দিয়েছেন। নিজাম উদ্দিন বলেন, ‘এমপি কয়েকদিন আগে হাতিয়া এসে রহমত বাজারে একটি জনসভায় বলেছেন, কোনো প্রার্থীকে দল থেকে এখনো পর্যন্ত বাছাই করা হয়নি।’

চেয়ারম্যান পদে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন হাতিয়া উপজেলা যুবদলের সাবেক সদস্য ছোফায়েল আলী বাবু। তিনি বলেন, ‘বিএনপির জন্য ত্যাগ-শ্রম থেকে শুরু করে দুঃসময়ে হাল ধরেছি। দলের জন্য সবসময় কাজ করে গেছি। আশা করছি দল ত্যাগিদের বঞ্চিত না করে সঠিক মূল্যায়ন করবে।’ তিনি জানান, বুড়িরচরকে একটি মডেল ইউনিয়ন হিসেবে গড়ে তোলা-ই তার প্রধান লক্ষ্য। এদিকে, নির্বাচনে অংশ নেওয়ার পরিকল্পনা নেই বলে জানিয়েছেন আরেক সাবেক চেয়ারম্যান ফখরুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘নির্বাচন করার চিন্তাভাবনা এখনো পর্যন্ত নেই। আপাতত রাজনৈতিক পরিবেশ অবজারভেশন করছি।’

আলোচনায় আরও যারা রয়েছেন:
চেয়ারম্যান পদে সাবেক চেয়ারম্যান প্রার্থী আনছারুল আমিন মিঠুও এবার নির্বাচনে অংশ নেবেন বলে জানিয়েছেন। এদিকে, বুড়িরচর ইউনিয়ন যুবদলের সিনিয়র সহসভাপতি মোহাম্মদ আশিকুল আলম হ্যাপিও নির্বাচনে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। এছাড়া সাবেক চেয়ারম্যান আবদুল গণি মিয়ার ছেলে ও উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য ওমর ফারুক রাসেলও নির্বাচনে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। বিএনপির সমর্থন পেলে নির্বাচনে লড়ার আগ্রহের কথা জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় ওলামা দলের সদস্য ফারুক আল ফাহাদ। সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকায় রয়েছেন মামুনুর রশিদ। নির্বাচনে অংশ নেওয়ার কথা জানালেও কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা নেই বলে জানা গেছে। তিনি বলেন, ‘কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আমার সম্পৃক্ততা নেই। শিক্ষিত, মানবিক ও বৈষম্যহীন সমাজ গড়ে তোলা আমার অন্যতম লক্ষ্য।’

হাতিয়া উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মো. ওসমানও নির্বাচনে অংশ নেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমি ইতোমধ্যে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করে দিয়েছি। আশা করছি, দল আমাকে সমর্থন দেবে।’ অন্যদিকে, বুড়িরচর ইউনিয়নের যুবশক্তির সাবেক মুখ্য সংগঠক আবদুল মোতালেব চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার লক্ষ্যে ইতোমধ্যে বিভিন্ন প্রচারণা চালাচ্ছেন। তবে দলীয় বিভিন্ন সূত্রের বরাতে জানা গেছে, তাকে দল থেকে সমর্থন দেওয়ার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে।

এ বিভাগের আরও সংবাদ