নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ায় ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় ছয়টি কলেজের মধ্যে সর্বনিম্ন পাসের হার হাতিয়া দ্বীপ সরকারি কলেজে। ফলাফল খারাপ হওয়ার পেছনে শিক্ষকসংকট, শিক্ষার্থীদের নিয়মিত ক্লাস না করা এবং তুলনামূলক দুর্বল শিক্ষার্থীদের ভর্তির বিষয়গুলোকে দায়ী করেছেন কলেজটির ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ জিয়াউল হক সিকদার।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে প্রকাশিত ফলাফলের তালিকা অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানটি থেকে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ৪০৬ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছেন মাত্র ৫৭ জন। পাসের হার ১৪ দশমিক ০৪ শতাংশ।
এ বছর হাতিয়ার ছয়টি কলেজ থেকে মোট ১ হাজার ১১৮ জন শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেন। তাঁদের মধ্যে পাস করেছেন ২৯৬ জন। সামগ্রিক পাসের হার ২৬ দশমিক ৪৮ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছেন দুইজন শিক্ষার্থী।
উপজেলার কলেজগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ পাসের হার প্রকৌশলী মো. ফজলুল আজিম কলেজে। প্রতিষ্ঠানটি থেকে ৩১৯ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছেন ১৫৮ জন। পাসের হার ৪৯ দশমিক ৫৩ শতাংশ। এ কলেজ থেকে দুজন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছেন। মোহাম্মদ আলী কলেজ থেকে ১৩৯ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছেন ৩৯ জন। পাসের হার ২৮ দশমিক ০৬ শতাংশ।
এছাড়াও হাতিয়া কমিউনিটি কলেজে ২৪ জনের মধ্যে পাস করেছেন পাঁচজন। পাসের হার ২০ দশমিক ৮৩ শতাংশ। হাতিয়া ডিগ্রি কলেজ থেকে ২১০ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন ৩৪ জন। পাসের হার ১৬ দশমিক ১৯ শতাংশ। তমরদ্দি হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজে ২০ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছেন তিনজন। প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার ১৫ শতাংশ।
হাতিয়া দ্বীপ সরকারি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ জিয়াউল হক সিকদার বলেন, কলেজটিতে চরম শিক্ষক সংকট রয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীরা নিয়মিত ক্লাসে উপস্থিত হয় না। এ ছাড়া তুলনামূলকভাবে দুর্বল শিক্ষার্থীরা এ কলেজে ভর্তি হওয়ায় ফলাফলে এর প্রভাব পড়েছে। শিক্ষার্থীরা নিয়মিত ক্লাস করলে, অভিভাবকেরা তাঁদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করলে এবং শিক্ষকসংকট নিরসন হলে এ কলেজ থেকে আরও ভালো ফলাফল করা সম্ভব হবে।
অপরদিকে এইচএসসির পাশাপাশি এ বছর হাতিয়া উপজেলার নয়টি মাদ্রাসার আলিম পরীক্ষার ফলাফলও প্রকাশ করা হয়েছে। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয়ের তালিকা অনুযায়ী, এসব মাদ্রাসা থেকে ২৯৭ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে পাস করেছেন ১৭১ জন। সামগ্রিক পাসের হার ৫৭ দশমিক ৫৭ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছেন একজন শিক্ষার্থী।
আলিম পরীক্ষায় হাতিয়া রহমানিয়া ফাজিল মাদ্রাসা থেকে ৩৯ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছেন ২৭ জন। প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার ৬৯ দশমিক ২৩ শতাংশ। এ মাদ্রাসা থেকে একজন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছেন। তমরদ্দি আহমদিয়া ফাজিল মাদ্রাসায় ৩২ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছেন ২০ জন। পাসের হার ৬২ দশমিক ৫০ শতাংশ। বুড়িরচর আহমদিয়া আলিম মাদ্রাসায় ৫১ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন ৩১ জন। পাসের হার ৬০ দশমিক ৭৮ শতাংশ। হাতিয়া দারুল উলুম কামিল মাদ্রাসায় ৪২ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছেন ২২ জন। পাসের হার ৫২ দশমিক ৩৮ শতাংশ। সুখচর আল-আজহারুল উলুম ফাজিল মাদ্রাসায় ২১ জনের মধ্যে পাস করেছেন ১৫ জন। পাসের হার ৭১ দশমিক ৪৩ শতাংশ।
এ ছাড়া চর চেঙ্গা ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসায় ৪২ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছেন ২১ জন। পাসের হার ৫০ শতাংশ। চর কৈলাশ হাদিয়া ফাজিল মাদ্রাসায় ১২ জনের মধ্যে পাস করেছেন ১০ জন। পাসের হার ৮৩ দশমিক ৩৩ শতাংশ। জাহাজমারা ছেরাজুল উলুম আলিম মাদ্রাসায় ৩১ জনের মধ্যে পাস করেছেন ১০ জন। পাসের হার ৩৫ দশমিক ৭১ শতাংশ। চৌমুহনী তবারকিয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসায় ২৭ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছেন ১৫ জন। পাসের হার ৫৫ দশমিক ৫৬ শতাংশ।
প্রকাশিত ফলাফলে দেখা যায়, হাতিয়ার কলেজগুলোতে এইচএসসি পরীক্ষার সামগ্রিক পাসের হার ২৬ দশমিক ৪৮ শতাংশ। অন্যদিকে, মাদ্রাসাগুলোতে আলিম পরীক্ষার পাসের হার ৫৭ দশমিক ৫৭ শতাংশ। দুই ধারার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ফলাফলে উল্লেখযোগ্য ব্যবধান রয়েছে।





