ভুল চিকিৎসায় শিশু মৃত্যুর ঘটনায় নোয়াখালী ইসলামীয়া চক্ষু হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আবুল হোসেনকে কারাগারে তোলার পর তাকে কারাগারে পাঠিয়েছেন বিচারক। রোববার বিকেলে তাকে ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে নোয়াখালী চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে পাঠানো হয়। সুধারাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
ওসি জানিয়েছেন, আজ বিকেলে আবুল হোসেনকে ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে নোয়াখালী চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে পাঠানো হয়। সন্ধ্যায় সদর কোর্টের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট মো. হামিদুল ইসলাম তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
জেলা সিভিল সার্জন ডা. আনোয়ার হোসেন জানান, এ ঘটনায় নোয়াখালী সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নাঈমা নুসরাত জাবিন চৌধুরীকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির অপর দুই সদস্য হলেন চক্ষুরোগ বিশেষজ্ঞ হাসনাত জাকি চৌধুরী ও জেলা সিভিল সার্জন অফিসের মেডিকেল অফিসার (কো-অর্ডিনেশন) ডা. ফাত্তাহেল আলীম। আগামী ৫ কর্মদিবসের মধ্যে এ কমিটিকে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
২৫০ শয্যা নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল মেডিকেল অফিসার ডা. রাজিব আহম্মেদ চৌধুরী জানিয়েছেন, আজ বিকেল সাড়ে ৪টায় নিহত মো. মোসলেমের ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
মোসলেম লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার চরবসু গ্রামের মাহফুজুর রহমানের ছেলে। এটি নোয়াখালী-লক্ষীপুরের সীমান্তবর্তী এলাকা। শিশুটির স্বজনরা জানিয়েছেন, শনিবার বিকেলে মোসলেম সমবয়সীদের সঙ্গে খেলা করার সময় এক শিশু তার চোখে আঘাত করে। এতে তার চোখে রক্ত জমে ফুলে উঠে।
এরপর শিশুটিকে নোয়াখালী সদর উপজেলার দত্তেরহাটের ইসলামিয়া চক্ষু হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে আবুল হোসেন শিশুটিকে অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে তার চেখে তিনটি ইনজেকশন দেন। এর পরপরই শিশুটির মুখ দিয়ে ফেনা বেরিয়ে আসে এবং সে অচেতন হয়ে পড়ে।
তখন আবুল হোসেন শিশুটিকে সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিয়ে সরে পড়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু শিশুটির স্বজনরা আবুল হোসেনসহ ২৫০ শয্যা নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে যান। সেখানে জরুরি বিভাগের চিকিৎসকরা শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে হাসপাতাল থেকে তাকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়।
সুধারাম মডেল থানার ওসি নজরুল ইসলাম বলেন, ‘এ ঘটনায় নিহত শিশুটির পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ দায়েরের জন্য দিনভর অপেক্ষা করা হয়েছে। কিন্তু তারা সিদ্ধান্ত নিতে দেরি করায় বিকেলে আবুল হোসেনকে ৪৫ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে। পরে ভুক্তভোগী পরিবার চাইলে মামলা দায়েরের সুযোগ রয়েছে।’
ওসি জানান, খবর পেয়ে রাতেই হাসপাতালটি পরিদর্শন করেন জেলা সিভিল সার্জন ডা. আনোয়ার হোসেন। এ সময় কাউকে না পেয়ে প্রতিষ্ঠানটি সিলগালা করে দেওয়া হয়।
অভিযুক্ত হোসেনের দাবি তিনি ডিপ্লোমাধারী সিনিয়র অপটোমেট্রিস্ট। তবে, এ ধরনের ডিপ্লোমাধারী কেউ চিকিৎসক নয়, তারা কাউকে চিকিৎসা বা অ্যানেস্থেসিয়া দিতে পারেন না বলে জানিয়েছেন সিভিল সার্জন ডা. আনোয়ার হোসেন।





