ময়না দ্বীপে নব্য হোসেন মিয়ার উত্থান যেন না ঘটে
- প্রকাশিত : রবিবার, ১ মার্চ ২০২৬। ১২:৪৫:৪৫ পিএম
মানিক বন্দোপাধ্যায় তার পদ্মানদীর মাঝি উপন্যাসে কল্পিত যে ময়না দ্বীপের উল্লেখ করেছেন সেটা নোয়াখালীর দ্বীপ হাতিয়ার কাছাকাছি কোন এক দ্বীপ বলেই ধরা হয়। সে দ্বীপের রাজত্ব করতেন হোসেন মিয়া। উপন্যাসে বর্ণিত অন্যতম রহস্যময়ী হোসেন মিয়ার চরিত্রের সাথে হাতিয়া দ্বীপের অতীতের একজন বিনা ভোটের এমপি’র অসাধারণ মিল ছিল। ১৭ বছর ধরে হাতিয়া দ্বীপে তিনি হোসেন মিয়ার চরিত্রে দ্বীপের মানুষের ওপর তার নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছেন।
পদ্মানদীর মাঝি উপন্যাসের প্রধান চরিত্র দরিদ্র কুবের মাঝির মতো অসহায় দ্বীপের বাসিন্দাদের নূন্যতম কিছু সুবিধা দেওয়ার আশ্বাসে তাদের সবকিছু কেড়ে নিতেন তিনি। তার ইশারায় দ্বীপ হাতিয়ায় সংগঠিত হতো ভ্রাতৃঘাতী সংঘর্ষ। দ্বীপের প্রায় সবকিছুই তার ইশারায় নিয়ন্ত্রিত হতো। খুন, জখম, = ডাকাতি, জলদস্যুতা, ভূমিদস্যুতা, জবরদখল, আক্রমণ, নৌপরিবহন – ব্যবস্থায় নৈরাজ্য তৈরি করে মানুষকে জিম্মি করা, বাজারঘাট ইজারা, – খালবিল দখল ইত্যাদি সবকিছুতেই ছিল তার একক কর্তৃত্ব। হোসেন মিয়ার মতো তিনিও সামান্য কিছু পয়সা ছিটিয়ে দ্বীপের বহু ছিঁচকে লোকেদের – নিজের অন্যায় সাম্রাজ্যে টিকিয়ে রাখার কাজে ব্যবহার করতেন।
দ্বীপের অধিকাংশ মানুষই হতদরিদ্র হলেও তাদের মধ্যে একজায়গায় খুব মিল আছে, আর সেটা হলো এখানে প্রায় সকলেই লুম্পেন। ঘাটের কুলি থেকে কলেজের শিক্ষক পর্যন্ত সবাই এই হোসেন মিয়ার পা চাটা কুত্তা’র ভূমিকায় অবতীর্ণ হতেন। ঢাকা টু হাতিয়া কিংবা হাতিয়া টু ঢাকা গামী লঞ্চে কেবিন নিতে হলে ঐ হোসেন মিয়ার কুত্তাদের লেজ ধরে কাকুতি মিনতি করতে হতো। হাতিয়া দ্বীপের বাসিন্দা হওয়া সত্ত্বেও নিজেকে আউটসাইডার বা পরিযায়ী ভিখারি মনে হতো। তার করুণার ওপর হাতিয়া দ্বীপের বহু মানুষের ভাগ্য নির্ধারিত হতো। দ্বীপ হাতিয়ার সাধারণ মানুষকে কোনভাবেই সাধারণ বলা চলেনা কারণ হোসেন মিয়ার সান্নিধ্যে লাভ করলে প্রত্যেকটা সাধারণ লোকই হয়ে উঠতো ভয়ংকর অসাধারণ এক নিপীড়ক। সমস্ত রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ক্ষমতার বেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছিলেন সেই হোসেন মিয়া। সেই সুবাদে তার – পালিত মানুষরূপী শুয়োর গুলো সাধারণ মানুষের ওপর নির্যাতন, নিপীড়নের খড়গ চালাতো। ২৪’র গণ-অভ্যুত্থানের পর সেই হোসেন মিয়ার পতন ঘটে এবং তিনি এখন জেলে বন্দী।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর সেখানে এখন নতুন নেতৃত্ব। কিন্তু মাত্র ২/৩ দিনের হালচাল দেখে মনে হচ্ছে দ্বীপ হাতিয়ায় নব্য কোন হোসেন মিয়ার আবির্ভাব ঘটতে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে পুরনো হোসেন মিয়ার অনুসারীদের মতো নতুন কিছু লুম্পেন জনতা তৈরি হয়েছে। তারাও দ্বীপ হাতিয়াকে আবার নতুন কোন হোসেন মিয়ার করায়ত্ব করতে চায়। কাজেই দ্বীপের বাসিন্দারা যদি নিজেদের মুক্তি চান তাহলে নব্য হোসেন মিয়ার উত্থান ঠেকাতে হবে। জনপ্রতিনিধিকে জনগণের সেবক হিসেবেই গণ্য করুন; নিজের ব্যক্তি স্বার্থে ক্ষমতার অপব্যবহারকে ন্যায্যতা দিয়ে নতুন হোসেন মিয়ার উত্থান ঘটাবেন না।
প্রধান সংবাদ | ১ মার্চ ২০২৬
ময়না দ্বীপে নব্য হোসেন মিয়ার উত্থান যেন না ঘটে
















