শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

‘দ্বীপের মানুষ অধিকার চায়’

দিনাজ উদ্দিন
  • প্রকাশিত : বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬। ৭:৫৪:৪১ এএম
  • / 75

হাতিয়া শুধু একটি দ্বীপ নয়। হাতিয়া হলো সংগ্রাম, সাহস আর সম্ভাবনার নাম। মেঘনা নদীর বুকচিরে জেগে ওঠা এই জনপদ যুগে যুগে লড়েছে প্রকৃতির সঙ্গে, লড়েছে অবহেলার সঙ্গে, আর বারবার প্রমাণ করেছে’হাতিয়ার মানুষ কখনো হার মানে না। বাংলাদেশের মানচিত্রে হাতিয়া হয়তো দূরের এক কোণে, কিন্তু দেশের ইতিহাসে হাতিয়া দ্বীপের ত্যাগ কখনোই ছোট ছিল না। হাতিয়ার ইতিহাসে অনেক নেতা এসেছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন আবুল হাসানাত মোহাম্মদ আবদুল হাই, আমিরুল ইসলাম কালাম, প্রকৌশলী মোহাম্মদ ফজল আজিম, অধ্যাপক ওয়ালী উল্লাহ, মোহাম্মদ আলীসহ অনেকে। যার যার অবস্থান থেকে তারা হাতিয়া উন্নয়নে ভূমিকা রেখেছেন। কিন্তু আজ হাতিয়া দ্বীপের মানুষের প্রশ্ন? স্বপ্ন আর বাস্তবতার দূরত্ব কেন এখনো এত বেশি?

আজও হাতিয়ার মানুষ লড়ছে মানসম্মত চিকিৎসার জন্য, শিক্ষার জন্য, যোগাযোগের জন্য। এখনো পূর্ণাঙ্গ আধুনিক ব্লক ও হাসপাতাল নেই। মানসম্মত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অভাব রয়ে গেছে। বর্ষা এলেই রাস্তাঘাট ভেঙে যায়, জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হয় ভূমি। নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ এখনো পাচ্ছে না দ্বীপবাসী। নিঝুম দ্বীপ, যেটা আন্তর্জাতিক পর্যটনের কেন্দ্র হতে পারত, অব্যবস্থাপনা ও নাজুক যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে সেটা বাস্তবায়ন হয়নি।

হাতিয়ার জীবনরেখা নোয়াখালীর সাথে যোগাযোগ। ফেরি এসেছে এটা অবশ্যই আশারই কথা। কিন্তু প্রশ্ন হলো, ফেরি নামার পর মানুষ যাবে কীভাবে? নোয়াখালী দিকের রাস্তা কোথায়, হাতিয়া দিকের সংযোগ সড়কই বা কোথায়? নোয়াখালীর নাম থাকলেও বাস্তবে যোগাযোগ এখনো অনিশ্চিত। ফেরি যদি থাকে, তাহলে দুই পাশেই চাই পরিকল্পিত ও টেকসই সড়ক ব্যবস্থা। নইলে ফেরি শুধু ছবি হবে, সমাধান হবে না। এই নদীই আমাদের জমি দেয়?, আবার এই নদীই আমাদের সব কেড়ে নেয়। যদিও হাতিয়া নদীবন্দর ঘোষণা করা হয়েছে, যদি প্রয়োজনীয় ব্লক বাদ দিয়ে পরিকল্পিত নদী ব্যবস্থাপনা করা হয়, তাহলে শুধু ভাঙন কমবে না। নতুন চর টিকে থাকবে, কৃষি বাড়বে, যোগাযোগ সহজ হবে, শিল্প ও পর্যটনের সুযোগ তৈরি হবে, পুরো অঞ্চলের অর্থনীতি বদলে যাবে। আমাদের আরেকটা বড় প্রয়োজন শান্তি ও ঐক্য।

অপ্রয়োজনীয় দ্বন্দ্ব, কোলাহল আর বিভাজন হাতিয়াকে অনেক পিছিয়ে দিয়েছে। বিভক্তির রাজনীতি নয়, আমাদের দরকার কার্যকর সমাধান। হাতিয়া দ্বীপের মানুষ আজ ভিক্ষা চায় না। দ্বীপের মানুষ তার অধিকার চায়। মানুষ চায় আধুনিক হাসপাতাল ও টেকশই ব্লক বাঁধ, মানসম্মত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, টেকসই রাস্তাঘাট, শতভাগ বিদ্যুতায়ন, নিঝুম দ্বীপে ক্রস ড্যাম, নোয়াখালীর সাথে পূর্ণাঙ্গ ফেরি ও সড়ক সংযোগ, নতুন চরগুলো হাতিয়ার ভুক্তকরণ। এবং সর্বপূরী একটি শান্তিপূর্ণ, ঐক্যবদ্ধ সমাজ। আজ আমরা যে সিদ্ধান্ত নেবো, তার ফল ভোগ করবে আমাদের সন্তানরা। আমরা চাই না আগামী প্রজন্ম একদিন ফিরে তাকিয়ে বলুক, এই প্রজন্ম আমাদের জন্য কিছুই রেখে যায়নি। এই কারণেই আমরা এমন একজন প্রতিনিধির কথা ভাবতে পারি, যিনি ক্ষমতার জন্য নয়, এই দাবিগুলোর সাথে একাত্মতা ঘোষণা করবেন। যিনি বলবে হাসপাতাল হবে, রাস্তাঘাট হবে, নদী রক্ষা হবে, হাতিয়া বাঁচবে। আমরা কোনো দলের পক্ষে না। আমরা হাতিয়া দ্বীপের পক্ষে। আমরা চাই এমন সিদ্ধান্ত, যাতে আগামীর প্রজন্ম গর্ব করে বলতে পারে, আমাদের আগের প্রজন্ম হাতিয়া দ্বীপের জন্য সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছিল।

মুক্তমত | ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

‘দ্বীপের মানুষ অধিকার চায়’

বিস্তারিত | hatiyakantha.com

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ারের করুন

‘দ্বীপের মানুষ অধিকার চায়’

প্রকাশিত : ০১:৫৪:৪১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

হাতিয়া শুধু একটি দ্বীপ নয়। হাতিয়া হলো সংগ্রাম, সাহস আর সম্ভাবনার নাম। মেঘনা নদীর বুকচিরে জেগে ওঠা এই জনপদ যুগে যুগে লড়েছে প্রকৃতির সঙ্গে, লড়েছে অবহেলার সঙ্গে, আর বারবার প্রমাণ করেছে’হাতিয়ার মানুষ কখনো হার মানে না। বাংলাদেশের মানচিত্রে হাতিয়া হয়তো দূরের এক কোণে, কিন্তু দেশের ইতিহাসে হাতিয়া দ্বীপের ত্যাগ কখনোই ছোট ছিল না। হাতিয়ার ইতিহাসে অনেক নেতা এসেছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন আবুল হাসানাত মোহাম্মদ আবদুল হাই, আমিরুল ইসলাম কালাম, প্রকৌশলী মোহাম্মদ ফজল আজিম, অধ্যাপক ওয়ালী উল্লাহ, মোহাম্মদ আলীসহ অনেকে। যার যার অবস্থান থেকে তারা হাতিয়া উন্নয়নে ভূমিকা রেখেছেন। কিন্তু আজ হাতিয়া দ্বীপের মানুষের প্রশ্ন? স্বপ্ন আর বাস্তবতার দূরত্ব কেন এখনো এত বেশি?

আজও হাতিয়ার মানুষ লড়ছে মানসম্মত চিকিৎসার জন্য, শিক্ষার জন্য, যোগাযোগের জন্য। এখনো পূর্ণাঙ্গ আধুনিক ব্লক ও হাসপাতাল নেই। মানসম্মত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অভাব রয়ে গেছে। বর্ষা এলেই রাস্তাঘাট ভেঙে যায়, জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হয় ভূমি। নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ এখনো পাচ্ছে না দ্বীপবাসী। নিঝুম দ্বীপ, যেটা আন্তর্জাতিক পর্যটনের কেন্দ্র হতে পারত, অব্যবস্থাপনা ও নাজুক যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে সেটা বাস্তবায়ন হয়নি।

হাতিয়ার জীবনরেখা নোয়াখালীর সাথে যোগাযোগ। ফেরি এসেছে এটা অবশ্যই আশারই কথা। কিন্তু প্রশ্ন হলো, ফেরি নামার পর মানুষ যাবে কীভাবে? নোয়াখালী দিকের রাস্তা কোথায়, হাতিয়া দিকের সংযোগ সড়কই বা কোথায়? নোয়াখালীর নাম থাকলেও বাস্তবে যোগাযোগ এখনো অনিশ্চিত। ফেরি যদি থাকে, তাহলে দুই পাশেই চাই পরিকল্পিত ও টেকসই সড়ক ব্যবস্থা। নইলে ফেরি শুধু ছবি হবে, সমাধান হবে না। এই নদীই আমাদের জমি দেয়?, আবার এই নদীই আমাদের সব কেড়ে নেয়। যদিও হাতিয়া নদীবন্দর ঘোষণা করা হয়েছে, যদি প্রয়োজনীয় ব্লক বাদ দিয়ে পরিকল্পিত নদী ব্যবস্থাপনা করা হয়, তাহলে শুধু ভাঙন কমবে না। নতুন চর টিকে থাকবে, কৃষি বাড়বে, যোগাযোগ সহজ হবে, শিল্প ও পর্যটনের সুযোগ তৈরি হবে, পুরো অঞ্চলের অর্থনীতি বদলে যাবে। আমাদের আরেকটা বড় প্রয়োজন শান্তি ও ঐক্য।

অপ্রয়োজনীয় দ্বন্দ্ব, কোলাহল আর বিভাজন হাতিয়াকে অনেক পিছিয়ে দিয়েছে। বিভক্তির রাজনীতি নয়, আমাদের দরকার কার্যকর সমাধান। হাতিয়া দ্বীপের মানুষ আজ ভিক্ষা চায় না। দ্বীপের মানুষ তার অধিকার চায়। মানুষ চায় আধুনিক হাসপাতাল ও টেকশই ব্লক বাঁধ, মানসম্মত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, টেকসই রাস্তাঘাট, শতভাগ বিদ্যুতায়ন, নিঝুম দ্বীপে ক্রস ড্যাম, নোয়াখালীর সাথে পূর্ণাঙ্গ ফেরি ও সড়ক সংযোগ, নতুন চরগুলো হাতিয়ার ভুক্তকরণ। এবং সর্বপূরী একটি শান্তিপূর্ণ, ঐক্যবদ্ধ সমাজ। আজ আমরা যে সিদ্ধান্ত নেবো, তার ফল ভোগ করবে আমাদের সন্তানরা। আমরা চাই না আগামী প্রজন্ম একদিন ফিরে তাকিয়ে বলুক, এই প্রজন্ম আমাদের জন্য কিছুই রেখে যায়নি। এই কারণেই আমরা এমন একজন প্রতিনিধির কথা ভাবতে পারি, যিনি ক্ষমতার জন্য নয়, এই দাবিগুলোর সাথে একাত্মতা ঘোষণা করবেন। যিনি বলবে হাসপাতাল হবে, রাস্তাঘাট হবে, নদী রক্ষা হবে, হাতিয়া বাঁচবে। আমরা কোনো দলের পক্ষে না। আমরা হাতিয়া দ্বীপের পক্ষে। আমরা চাই এমন সিদ্ধান্ত, যাতে আগামীর প্রজন্ম গর্ব করে বলতে পারে, আমাদের আগের প্রজন্ম হাতিয়া দ্বীপের জন্য সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছিল।

মুক্তমত | ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

‘দ্বীপের মানুষ অধিকার চায়’

বিস্তারিত | hatiyakantha.com